
পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট অথচ সবচেয়ে আবেগময় শব্দগুলোর একটি ‘বাবা’। এই একটি শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে অতল ভালোবাসা, পরম নিরাপত্তা, অসীম সাহস আর নির্ভরতার এক অদ্ভুত অনুভূতি। সেই বাবাদের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের দিন আজ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়। সেই হিসেবে এবার দিবসটি পালিত হচ্ছে আজ, ২১ জুন।
যদিও বাবা দিবসের ধারণার জন্ম পশ্চিমা বিশ্বে, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি আজ বৈশ্বিক রূপ নিয়েছে। মায়েদের জন্য একটি বিশেষ দিন (মা দিবস) থাকলে বাবাদের জন্য কেন থাকবে না—এমন ভাবনা থেকেই মূলত বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এই দিবসের উদযাপন শুরু হয়।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোনোনগাহ এলাকায় একটি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৩ শতাধিক পুরুষ প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন বাবা। এই ঘটনার পর খনিতে নিহত সেই বাবাদের স্মরণে এবং তাদের সন্তানদের সমবেদনা জানাতে ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্ট এলাকার একটি গির্জায় প্রথমবারের মতো বিশেষ প্রার্থনা সভার মাধ্যমে বাবা দিবস পালিত হয়।
তবে এই দিবসটিকে প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিকভাবে জনপ্রিয় করে তোলার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান সোনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারীর। সোনোরার মা যখন মারা যান, তখন তিনি খুব ছোট। তার বাবা উইলিয়াম স্মার্ট ছিলেন একজন মার্কিন গৃহযুদ্ধের সেনা। মা মারা যাওয়ার পর সেই কঠিন সময়ে সোনোরার বাবা একা হাতেই সোনোরারসহ তার আরও ৫ ভাইবোনকে পরম মমতায় বড় করে তোলেন। বাবার এই আত্মত্যাগ ও অবদান দেখে সোনোরা অনুভব করেন, মা দিবসের মতো বাবাদের জন্যও একটা সম্মাননা দিবস থাকা উচিত।
তারই একক প্রচেষ্টায় ১৯১০ সালের ১৯ জুন ওয়াশিংটনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বাবা দিবস উদ্যাপিত হয়। ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে বাবার অবদানের গুরুত্ব আরও বেশি করে স্বীকৃতি পেতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংসদে বাবা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণার প্রস্তাব তোলা হয়। ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাবা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এটিকে আইনগতভাবে রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

বাবা দিবসে বাবার জন্য বিশেষ কিছু
শুধু একটি দিন নয়, বাবার প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা থাকা উচিত বছরের প্রতিটি দিন। তবে এই বিশেষ দিনে বাবাকে চমকে দিতে এবং তার মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতে কিছু এক্সক্লুসিভ উপহার দেওয়া যেতে পারে।
স্মার্ট হেলথ ট্র্যাকার বা স্মার্টওয়াচ
বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাবার স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখা সন্তানের প্রধান দায়িত্ব। একটি ভালো স্মার্টওয়াচ বাবার হার্ট রেট, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা, ঘুমের সাইকেল এবং প্রতিদিন তিনি কতটুকু হাঁটছেন তা ট্র্যাক করতে সাহায্য করবে।
কাস্টমাইজড ফটো অ্যালবাম বা ডিজিটাল ফটো ফ্রেম
বাবারা সাধারণত স্মৃতিকাতর হন। শৈশব থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাবার সাথে আপনার কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলোর ছবি দিয়ে একটি অ্যালবাম তৈরি করে দিলে তিনি আবেগী হয়ে উঠবেন নিশ্চিত।
আরামদায়ক অর্থোপেডিক ফুটওয়্যার বা জুতো
বয়স বাড়লে অনেকেরই পায়ে বা হাঁটুতে ব্যথা হয়। বাবাকে হাঁটাচলার সময় আরাম দিতে একটি ভালো মানের অর্থোপেডিক বা কুশনযুক্ত ক্যাজুয়াল জুতো উপহার দেয়া হলে তা হবে বাবার জন্য খুবই উপকারি কিছু।
বই বা ধর্মীয় গ্রন্থ
অবসর সময়ে বাবারা বই পড়তে ভালোবাসেন। বাবার পছন্দের কোনো লেখক কিংবা তার পছন্দের বিষয়ের (যেমন- ইতিহাস, রাজনীতি বা ধর্মীয়) কোনো বইয়ের কালেকশন তার অবসর সময়কে আরও আনন্দময় করবে।
লেদারের ওয়ালেট
বাবারা নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস সহজে বদলাতে চান না। হয়তো বছরের পর বছর ধরে একই মানিব্যাগ ব্যবহার করছেন। একটি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির লেদার ওয়ালেট ও বেল্ট সেট তার দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য চমৎকার উপহার।
ক্লাসিক হাতঘড়ি
ঘড়িকে ধরা হয় আভিজাত্য এবং স্মৃতির প্রতীক। একটি সুন্দর মেটাল বা লেদার স্ট্র্যাপের হাতঘড়ি বাবার ব্যক্তিত্বের সাথে যেমন মানাবে, তেমনি এটি দীর্ঘ সময় তার কাছে আপনার স্মৃতি হিসেবে থেকে যাবে।
কাস্টমাইজড ডায়েরি এবং কলম
অনেক বাবারই ডায়েরি লেখার বা হিসাব রাখার অভ্যাস থাকে। ডায়েরির কভারে বাবার নাম খোদাই করে সাথে একটি চমৎকার ফাউন্টেন পেন উপহার দিলে তিনি ভীষণ খুশি হবেন।
বাবার সাথে একান্ত সময় কাটানো ও পছন্দের খাবার খাওয়া
যেকোনো উপহারের চেয়ে বাবার কাছে সবচেয়ে দামী উপহার হলো সন্তানের সময়। এই দিনে বাবাকে নিয়ে বাইরে কোথাও ডিনারে যেতে পারেন অথবা তার পছন্দের খাবার নিজ হাতে রান্না করে তাকে খাওয়াতে পারেন। ব্যস্ততার মাঝে বাবাকে পুরোটা দিন সময় দেওয়াটাই হবে তার জীবনের সেরা প্রাপ্তি।
ভিজুয়াল স্টোরি











































