রবিবার । জুন ২১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক লাইফস্টাইল ২১ জুন ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

আজ বিশ্ব সংগীত দিবস


Song Day

গান কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ নয়; এটি মানুষের মনের গহীন কোণের আবেগ, অব্যক্ত অনুভূতি আর ভালোবাসার প্রকাশের এক অনন্য ভাষা। মানুষের সুখের হাসিতে যেমন গান থাকে, তেমনি দুঃখের নীল সাগরে ডুব দিতেও মানুষ সুরেরই আশ্রয় খোঁজে। সুরের সেই চিরন্তন শক্তি আর গানকে ভালোবাসার এক বিশেষ দিন আজ—২১ জুন, বিশ্ব সংগীত দিবস।

পৃথিবীর বুক থেকে হিংসা-বিদ্বেষ মুছে শান্তি, সম্প্রীতি ও ইতিবাচক চিন্তার বার্তা ছড়িয়ে দিতেই প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে উদ্‌যাপন করা হয় এই বিশেষ দিনটি। কারণ সংগীতের কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই, কোনো দেশের কাঁটাতারের গণ্ডিতেও একে আটকে রাখা যায় না। আর তাই গানের ভাষাকে বলা হয় পৃথিবীর একমাত্র সর্বজনীন ভাষা।

আজকের এই বিশ্ব সংগীত দিবসের শেকড় কিন্তু লুকিয়ে আছে ফরাসি সংস্কৃতিতে। ফ্রান্সের বিখ্যাত ‘ফেট ডে লা মিউজক’ (Fête de la Musique) নামের একটি ঐতিহ্যবাহী সংগীত উৎসবের হাত ধরেই এর পথচলা শুরু। ১৯৮১ সালে ফ্রান্সের তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক লাঙ এই উৎসবকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার এক অনন্য উদ্যোগ নেন। এর ঠিক পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৮২ সালে এই বিশেষ দিনটি ‘বিশ্ব সংগীত দিবস’ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি পায়।

Song Day

এরপর ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১২০টি দেশের ৪৫০টিরও বেশি শহরে অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয় এই দিবস। বাংলাদেশে ২০০৭ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিনটি উদ্‌যাপন শুরু হয়।

বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে আয়োজন করা হয় বিশেষ কনসার্ট, আলোচনা সভা ও জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। শিল্পীরা তাদের কণ্ঠ আর বাদ্যযন্ত্রের সুরে সুর মিলিয়ে ছড়িয়ে দেন বৈশ্বিক ঐক্য আর শান্তির বার্তা।

একটি গান কখনো মানুষকে সোনালী অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, কখনো দুচোখে জল আনে, আবার কখনো তীব্র হতাশার মাঝেও নতুন করে বাঁচার এক অদ্ভুত অনুপ্রেরণা জোগায়। আর তাই সংগীতপ্রেমীদের প্রত্যাশা—শুধু ক্যালেন্ডারের একটি দিনেই কেন আটকে থাকবে সুরের বন্দনা? মানুষের জীবনের প্রতিটি দিনই কেটে যাক সুর, ছন্দ আর গানের অমলিন ভালোবাসায়।

উদ্যোগের গল্প