
সিইএ (CEA) টেস্ট মানেই কি ক্যান্সার
ডিজিটাল এই যুগে আমাদের সবার মধ্যেই একটা সাধারণ প্রবণতা তৈরি হয়েছে, শরীর খারাপ লাগলেই আমরা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে কিংবা পরে গুগলে অনুসন্ধান শুরু করি। আর এই অনুসন্ধানের তালিকায় যদি যুক্ত হয় ডাক্তারের লিখে দেওয়া কোনো বিশেষ টেস্টের নাম, তবে তো রাতের ঘুম হারাম হওয়াটা খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। এমনই একটি পরীক্ষা হলো কার্সিনোএমব্রায়োনিক অ্যান্টিজেন টেস্ট বা সংক্ষেপে সিইএ।
দেশের বহু সাধারণ মানুষ আছেন যারা প্রেসক্রিপশনে এই টেস্টের নাম দেখেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং ধরে নেন যে তাদের বুঝি কোনো মরণব্যাধি বা ক্যান্সার হয়েছে। ইন্টারনেটের আংশিক তথ্য আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভুল ব্যাখ্যার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আতঙ্ক দিন দিন ডালপালা মেলছে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাস্তবতা আর সাধারণ মানুষের এই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে এক আকাশ-পাতাল তফাত।
মনে করুন, আপনার বাসার আলমারিতে একটি জরুরি ফাইল বা প্রয়োজনীয় জিনিস রাখা ছিল, যা আপনি এখন খুঁজে পাচ্ছেন না। আপনি প্রথমে খুব স্বাভাবিক জায়গাগুলো, যেমন টেবিলের ড্রয়ার, বিছানার পাশ বা বইয়ের তাক খুঁজে দেখলেন, কিন্তু কোথাও সেটি পেলেন না। তখন আপনি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঘরের সবচেয়ে অন্ধকার কোণ বা আলমারির একদম পেছনের গোপন ড্রয়ারটাও হাতড়ে দেখতে শুরু করলেন। এর মানে কিন্তু এই নয় যে আপনার ঘর চুরি হয়ে গেছে বা জিনিসটা হারিয়েই গেছে; আপনি কেবল নিখুঁতভাবে নিশ্চিত হতে চাচ্ছেন যে জিনিসটা আসলেই ঘরের কোথাও ভুল করে রয়ে গেছে কি না। চিকিৎসকের কাছে এই সিইএ টেস্টটি দেওয়া ঠিক তেমনই একটি প্রক্রিয়া।
অনেক সময় দেখা যায়- সাধারণ রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে বা আল্ট্রাসনোগ্রামের মতো প্রাথমিক পরীক্ষাগুলোতে পেশেন্টের তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ধরা পড়ছে না। তখন ডাক্তাররা শরীরের ভেতর কোনো সুপ্ত সমস্যা বা বড় কোনো ঝুঁকির আশঙ্কাকে শুরুতেই তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার জন্য এই সিইএ টেস্টের সাহায্য নেন, যা এক প্রকার নিখুঁত তদন্ত প্রক্রিয়া মাত্র।
সিইএ (CEA) আসলে কী?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, সিইএ হলো রক্তে থাকা এক ধরনের প্রোটিন, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টিউমার মার্কার’ বলা হয়। একজন সুস্থ মানুষের রক্তে এর পরিমাণ থাকে অত্যন্ত নগণ্য। তবে শরীরে নির্দিষ্ট কিছু সমস্যা বা জটিলতা তৈরি হলে এই প্রোটিনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে।
ক্যান্সার না হলেও কেন দেওয়া হয় এই টেস্ট?
সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো—এই টেস্ট শুধুমাত্র ক্যান্সার রোগীদের জন্যই। চিকিৎসকদের মতে, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে শরীরের ওজন কমে গেলে, কিংবা দীর্ঘদিন পেটের বা লিভারের কোনো সমস্যা থাকলে, যার মূল কারণ সাধারণ টেস্টে ধরা পড়ছে না—তখন ডাক্তাররা শরীরকে আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে এই পরীক্ষাটি দেন।
এটি দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো বড় কোনো ঝুঁকির আশঙ্কাকে শুরুতেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। তাছাড়া অতিরিক্ত ধূমপান, লিভার সিরোসিস বা ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি ইনফেকশনের কারণেও রক্তে এই প্রোটিনের মাত্রা বাড়তে পারে। তাই প্রেসক্রিপশনে এই টেস্ট থাকা মানেই যে শরীরে ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।















































