রবিবার । জুন ১৪, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৪ জুন ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ভারতীয় নাবিকদের আকুতি


indian-sailors

ছবি: সংগৃহীত

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ওই রুটে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মারাত্মক সামরিক হামলা চালানো হচ্ছে। খবর এনডিটিভির।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাবিকদের চরম অসহায়ত্ব ও আতঙ্কের চিত্র ফুটে উঠেছে। এক ভিডিওতে ভারতীয় এক নাবিককে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা ইরানে আছি এবং এখানকার পরিস্থিতি খুবই খারাপ। শুধু ভারতীয় জাহাজগুলোতে হামলা হচ্ছে। আমরা অন্যের যুদ্ধে কেন জড়াব? আমরা তো সামরিক বাহিনীর সদস্য নই, নিতান্তই সাধারণ কর্মী হিসেবে জাহাজে কাজ করি।’

নিজের ও সহকর্মীদের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে ওই নাবিক আরও বলেন, ‘আমরা তো সৈনিক নই, এখানে কেবল কাজ করতে এসেছি। তাহলে আমাদের ওপর বারবার হামলা কেন করা হচ্ছে? আমাদের অপরাধটা কী?’ তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি যে জাহাজে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন, তিনি আগে সেই জাহাজেই কাজ করতেন। ওমানের উপকূলের কাছে জাহাজটিতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে বলে ওই জাহাজের ক্যাপ্টেনের বরাতে তিনি নিশ্চিত করেন।

আরেক নাবিক ভিডিওতে আক্ষেপ করে জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ ভারতীয় নাবিক কাজ করছেন, কিন্তু বর্তমান এই আন্তর্জাতিক সংকটে তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে কোথাও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

এর আগে গত সপ্তাহে ওমান উপকূলের কাছে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ‘মারিভেক্স’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে কর্মরত ভারতীয় নাবিকরা জরুরি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তাঁরা জানান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে গেছে এবং সেটি যেকোনো সময় ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরে তারা দ্রুত উদ্ধার পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আকুল আবেদন জানান।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় নাবিক বহনকারী একাধিক তেলবাহী জাহাজে মার্কিন সামরিক হামলা চালানো হয়। এসব হামলার একটিতে তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। এছাড়া ২৪ জন ভারতীয় নাবিক থাকা আরেকটি জাহাজও হামলার শিকার হয়, তবে পরবর্তীতে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।