রবিবার । জুন ১৪, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক ওয়ার্ল্ডকাপ গোল গ্রাফ ১৪ জুন ২০২৬, ৪:২৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

শেষ মুহূর্তের গোলে সুইজারল্যান্ডকে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়লো কাতার


qatar

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচের ঘড়িতে তখন যোগ করা সময়ের খেলা চলছে। জয় প্রায় নিশ্চিত ধরে নিয়ে সুইজারল্যান্ডের ডাগআউটে শুরু হয়ে গিয়েছিল উৎসবের প্রস্তুতি। কিন্তু ফুটবলের চিরচেনা নাটকীয়তা যেন অপেক্ষা করছিল শেষ বাঁশির ঠিক আগ মুহূর্তের জন্য। ইনজুরি টাইমে পাওয়া এক অবিশ্বাস্য গোলে সুইসদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে ১-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক ড্র আদায় করে নিয়েছে কাতার।

শনিবার দিবাগত রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার জমিনে এই ড্রয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পয়েন্টের দেখা পেল কাতার। এর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলা নিজেদের প্রতিটি ম্যাচেই পরাজিত হতে হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিকে। ঐতিহাসিক এই ড্রয়ের পর গ্যালারিতে থাকা হাজারো কাতারি সমর্থক উল্লাসে ফেটে পড়েন এবং শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ১-১ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সুইজারল্যান্ড। তার ফল তারা পায় প্রথমার্ধের ১৭ মিনিটেই। কাতারের ডি-বক্সের ভেতর ফাউলের ঘটনায় ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদাকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো। এই গোলের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম পেনাল্টি গোলের রেকর্ডও নিজেদের করে নেয় সুইজারল্যান্ড।

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্থ জুড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায় কাতার। তবে সুইজারল্যান্ডের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকাঞ্জিদের নেতৃত্বে গড়া রক্ষণভাগ বারবার প্রতিহত করে দিচ্ছিল কাতারিদের সব আক্রমণ। সময় যতই গড়াচ্ছিল, কাতারের গোলের আশাও যেন ততই নিভে আসছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পরও স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছিল সুইজারল্যান্ডের ১-০ ব্যবধানের লিড।

তখনই আসে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। ইনজুরি টাইমে সুইজারল্যান্ডের ডি-বক্সের ভেতরে দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সুইস রক্ষণভাগকে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে দুর্দান্ত এক গোল করেন কাতারের স্ট্রাইকার। সেই গোলেই ম্যাচে সমতা ফেরার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের জন্ম দেয় কাতার, যা তাদের এনে দেয় বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম পয়েন্ট অর্জনের মহাকীর্তি।