
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের শুরুটা প্রত্যাশামতো হলো না ব্রাজিলের। মরক্কোর বিপক্ষে মাঠের খেলায় ব্রাজিলকে ঠিক ‘ব্রাজিলীয়’ মনে হলো না। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বরং দাপটের সঙ্গে খেলেছে মরক্কোই, যার যোগ্য ফলও পেয়েছে তারা। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে জিততে দেয়নি অ্যাটলাস লায়ন্সরা; ১-১ গোলে রুখে দিয়ে আদায় করে নিয়েছে ঐতিহাসিক এক ড্র।
নিউ জার্সির তপ্ত গরমে বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের এই ম্যাচে প্রথমার্ধেই বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল সেলেসাওরা। ম্যাচের ২১ মিনিটে ইসমাইল সাইবারির দারুণ গোলে মরক্কো এগিয়ে গেলেও ৩২ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক গোল ম্যাচে ফেরায় ব্রাজিলকে। প্রথমার্ধের ১-১ সমতার পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল অনেকটা হোল্ডিং পজিশনে খেললেও মরক্কোর জমাট রক্ষণ ভেঙে গোলের বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতেই পারেনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই চরম আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে মরক্কো। বল দখলে ব্রাজিল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আক্রমণের ধারে এগিয়ে ছিল আফ্রিকান পরাশক্তিরাই। সপ্তম মিনিটে মাজরাউইয়ের ক্রস থেকে নিল এল আয়নাউইয়ের শট ব্রুনো গিমারায়েস ব্লক না করলে শুরুতেই বিপদে পড়তে পারত ব্রাজিল। ম্যাচের ১৪ মিনিটে বাম দিক দিয়ে ভিনিসিয়ুসের চমৎকার ক্রসে ইগর থিয়াগো ফাঁকায় হেডের সুযোগ পেলেও বলের সঙ্গে ঠিকমতো সংযোগ করতে পারেননি।
আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ২১ মিনিটে লিড নেয় মরক্কো। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজ মাঝমাঠ থেকে মারকিনিওস ও গ্যাব্রিয়েলের মাঝখান দিয়ে অসাধারণ একটি থ্রু পাস দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইসমাইল সাইবারি এগিয়ে আসা ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসনকে বোকা বানিয়ে লব শটে বল জালে জড়ান। গোল হজমের পর কিছুটা ছন্দ খোঁজার চেষ্টা করে ব্রাজিল। ২৯ মিনিটে হাকিমির ফ্রি-কিক থেকে এল আয়নাউইয়ের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে আবারও বেঁচে যায় সেলেসাওরা।
৩২ মিনিটে আসে ব্রাজিলের সেই কাঙ্ক্ষিত জবাব। ব্রুনো গিমারায়েসের পাস পেয়ে বাম দিক থেকে ডি-বক্সে কাট ইন করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এরপর ডান পায়ের নিখুঁত বাঁকানো শটে বল পাঠিয়ে দেন মরক্কোর তারকা গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর নাগালের বাইরে। জাতীয় দলের হয়ে নিজের ৫০তম ম্যাচে এই বিশেষ গোলের দেখা পেলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।
সমতায় ফেরার পরও মরক্কো আক্রমণের ধার কমায়নি। প্রথমার্ধের শেষদিকে ব্রাজিলের চাপ একটু বাড়লেও ম্যাচের বিরতির আগেই মরক্কোর আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রমাণ মেলে পরিসংখ্যানে। প্রথম ৩০ মিনিটেই তারা ব্রাজিলের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ১২টি শট নেয়, যা ব্রাজিলের গত কয়েকটি বিশ্বকাপ ম্যাচের ইতিহাসে বেশ বিরল দৃশ্য। ২০০২ সালের পর থেকে দীর্ঘ পাঁচটি টুর্নামেন্ট ধরে ট্রফি না পাওয়া ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপা খরা কাটানোর মিশনটি মরক্কোর এই ড্রয়ে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল।











































