রবিবার । জুন ২১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২১ জুন ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

আগামীকালই কি পদত্যাগ করছেন কিয়ার স্টারমার?


Starmar

লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তন আর এক গভীর সংকটের মেঘ জমতে শুরু করেছে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে রেকর্ডগড়া ঐতিহাসিক ল্যান্ডস্লাইড জয় নিয়ে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের মসনদে বসা লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার আগামীকাল সোমবারই (২২ জুন) পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অবজারভার’ এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই ইঙ্গিত দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকা স্টারমার সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বিদায়ের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বা রোডম্যাপ নির্ধারণ করে দিতে পারেন। যদিও ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সরকারি সূত্র এই দাবি কিছুটা নাকচ করে বলেছে, প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তে পদত্যাগের চেয়ে দেশের সার্বিক শাসনকাজের দিকেই বেশি মনোযোগী রয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও অবজারভারের বরাত দিয়ে আসা এই খবরটি ইতিমধ্যেই বিশ্ব রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

মাত্র দুই বছর আগে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এলেও বর্তমানে কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তার পারদ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। একের পর এক নীতিগত সিদ্ধান্ত বদল, কেলেঙ্কারি আর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন—তা পূরণে ব্যর্থ হওয়াকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন ব্রিটিশ ভোটাররা। ইতিমধ্যে তার নিজের দলেরই প্রায় ১০০ জনের বেশি আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন।

গত কয়েক মাস ধরে চলা এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ চূড়ান্ত রূপ নেয় গত শুক্রবার (১৯ জুন)। এদিন লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের অন্যতম প্রধান এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী, ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম পার্লামেন্টের একটি উপ-নির্বাচনে বড় জয় ছিনিয়ে নেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দলীয় প্রধান হিসেবে স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর সরাসরি এবং আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ সুগম হলো বার্নহামের জন্য।

উদ্ভূত এই চরম রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে কিয়ার স্টারমার তার চ্যাকার্স কান্ট্রি হাউজে স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে রুদ্ধদ্বার আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। লেবার পার্টির উচ্চপর্যায়ের নেতারা এখন আগামীকালের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে একটি চূড়ান্ত ও স্পষ্ট বিবৃতি আশা করছেন।

অবশ্য এর আগে গত শুক্রবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, তার নেতৃত্বের ওপর কোনো চ্যালেঞ্জ আসলে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবেন। একই সঙ্গে তিনি নিজ দলের সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নিজেদের মধ্যে লড়াই ও কাদা ছোড়াছুড়ি করে যেন ঐতিহ্যবাহী লেবার পার্টিকে ভেতর থেকে ছিন্নভিন্ন করা না হয়।

লন্ডনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ এখন আক্ষরিক অর্থেই তুঙ্গে এবং তার অবস্থান এখন খাদের কিনারায়। সোমবার যদি তিনি সত্যিই পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তবে গত এক দশকে যুক্তরাজ্য তাদের ৭ম প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে, যা দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অস্থিরতার প্রতীক হয়ে থাকবে।