
মরক্কোর ৪-২ গোলে জয়
এক দেখায়,
- মরক্কো সমতায় ফেরার আগে হাইতি ৫২ বছরের মধ্যে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি পায় এক আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে; মরক্কোর হয়ে পরে সমতা ফেরান আশরাফ হাকিমি।
- উইলিয়াম ইসিদোর দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক গোল হাইতিকে আবারও এগিয়ে দিলে ম্যাচ ফিরে পায় রোমাঞ্চ।
- মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় গোল করে আবারও দলকে সমতায় ফেরান।
- শেষ দিকে সুফিয়ান রহিমি ও গেসিম ইয়াসিন গোল করে আফ্রিকান দলটিকে গ্রুপ সি-তে দ্বিতীয় স্থানে রেখে পরের রাউন্ডে তুলে দেন।
সুফিয়ান রহিমি ও গেসিম ইয়াসিনের শেষ মুহূর্তের গোলের সৌজন্যে মরক্কো আটলান্টায় হাইতিকে তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে। আশারাফ হাকিমি ও ইসমাইল সাইবারির গোলে মরক্কো দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরে। এরপর ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে রহিমি গোল করেন এবং ইয়াসিন জয়ের সিলমোহর দেন।
তবে এই জয়েও মরক্কো গ্রুপ সি-র শীর্ষে উঠতে পারেনি, কারণ ব্রাজিল মায়ামিতে স্কটল্যান্ডকে সহজেই হারিয়েছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো এখন রাউন্ড অফ ৩২ -এ নেদারল্যান্ডস, জাপান অথবা সুইডেনের মুখোমুখি হবে।
তবে তারা হাইতির ইতিহাস হতে পারতো এমন এক রাতের আশা ভঙ্গ করেছে, যদিও বিশ্বের ৮৩ তম স্থানে থাকা দলটি দুইবার এগিয়ে গিয়েছিল এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের মোট গোলসংখ্যা দ্বিগুণ ও করলো। তবে মিস হলো প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট।
স্কটল্যান্ড ও ব্রাজিলের কাছে হেরে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগেই হাইতি বিদায় নিশ্চিত করেছিল। তবুও লেনি জোসেফের হালকা ছোঁয়ায় নেওয়া শট মরক্কোরই গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর গায়ে লেগে জালে জড়ালে ৫২ বছরের মধ্যে প্রথম গোল পায় তারা। আর ম্যাচের ১০ মিনিটে হওয়া এ গোলটি আত্মঘাতী গোল হিসেবে নথিভুক্ত হয়। ফলে জোসেফ বিশ্বকাপে হাইতির হয়ে গোল করা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হবার গৌরব থেকে বঞ্চিত হন। এর আগে ১৯৭৪ সালে ইমানুয়েল সানন দুই গোল করেছিলেন।
৩৯তম মিনিটে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের ফুল-ব্যাক আশরাফ হাকিমি মরক্কোকে সমতায় ফেরান। হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিদ ব্রাহিম দিয়াজের শট ঠিকভাবে ঠেকাতে না পারায় হাকিমি বলটি জালে পাঠান।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে সান্ডারল্যান্ডের স্ট্রাইকার উইলসন ইসিদোর টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলটি করেন। ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত শট সরাসরি ওপরের কর্নারে গিয়ে জড়ায়, যা হাইতির সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয়।
তবে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মরক্কো আবারও সমতায় ফেরে। হাকিমির চমৎকার পাস থেকে ইসমাইল সাইবারি টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন।
২০১৭-১৮ মৌসুমে ওল্ডহ্যাম অ্যাথলেটিকে খেলা জনি প্লাসিদ একের পর এক সেভ করে মরক্কোকে আটকে রাখেন। কিন্তু বদলি খেলোয়াড় রহিমির শট হাইতিরই ডিফেন্ডার রিকার্দো আদেয়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলে তা আর ঠেকাতে পারেননি গোলকিপার।
ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে রহিমি বল মাঠের ভেতরেই রাখতে সক্ষম হন, নিজেদের পায়েই ঘুরতে থাকে, এবং সেখান থেকে ইয়াসিন গোল করে জয় নিশ্চিত করেন। পরপরই, (VAR) চেক করে গোল নিশ্চিত করা হয় এবং ৪-২ গোলের জয় পায় মরক্কো। বিশ্লেষকদের মতে,
‘লড়াকু হাইতির বিপক্ষে আক্রমণভাগের মানই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে’
দুই দেশের ইতিহাসের প্রথম মুখোমুখি লড়াইয়ে আটলান্টার স্টেডিয়ামে ছিল বর্ণিল দর্শকসমাগম। হাইতির নীল-লাল এবং মরক্কোর লাল-সবুজ রং মিলে অসাধারণ এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিলো।
হাইতির সমর্থকেরা জানতেন, এটিই তাদের ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযানের শেষ অধ্যায়। তবু তারা কোনোভাবেই নীরবে বিদায় নিতে রাজি ছিলেন না।
শুরু থেকেই তারা গান, নাচ এবং নিরন্তর উৎসাহে দলকে সমর্থন যুগিয়েছেন। গোলরক্ষকের প্রতিটি সেইভ যেন গোলের সমোল্লাসে উদযাপিত হয়েছে।
অন্যদিকে মরক্কোর সমর্থকেরাও সমানভাবে সরব ছিলেন, কারণ এই ফলাফলই গ্রুপে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে বলে কথা।
শেষ পর্যন্ত মরক্কোর আক্রমণভাগের দক্ষতা ও বেঞ্চের গভীরতাই পার্থক্য গড়ে দেয় এবং তারা লড়াকু হাইতি দলকে হারাতে সক্ষম হয়।
মাঠের লড়াই যেমন ছিল অসাধারণ, তেমনি গ্যালারির পরিবেশও ছিল দুর্দান্ত—দুই দলের মহা-আবেগী সমর্থকদের উপস্থিতি ম্যাচটিকে আরও একটু বিশেষ করে তুলেছিল।
এরপর কী?
হাইতি গ্রুপ সি-তে সর্বশেষ স্থান নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।
অন্যদিকে গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়া মরক্কো আগামী মঙ্গলবার, ৩০ জুন (বিএসটি রাত ২:০০) মেক্সিকোর মন্টেরের এস্টাদিও মনতেরেই স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর ম্যাচে নেদারল্যান্ডস, জাপান অথবা সুইডেনের বিপক্ষে খেলবে।
ম্যাচসেরা খেলোয়াড়
🏅 আশরাফ হাকিমি
- গড় রেটিং: ৮.৬০
মরক্কোর খেলোয়াড়দের রেটিং
১ . আশরাফ হাকিমি – ৮.৬০
২ . সুফিয়ান রহিমি – ৮.২৯
৩ . ইসমাইল সাইবারি – ৮.১৪
৪ . গেসিম ইয়াসিন – ৭.৯৫
৫ . বিলাল এল খান্নুস – ৭.৬৬





































