cosmetics-ad

‘ভুয়া’ বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কোরিয়ান শিক্ষার্থীরা

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং ‘বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে এসবের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম সারির কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা বলছেন, এসব র‍্যাঙ্কিং পদ্ধতিতে ভুল বিষয়বস্তুর উপর জোর দিয়ে কার্যত উচ্চশিক্ষাকে ব্যয়বহুল করে তোলা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইয়নসেই ইউনিভার্সিটি, কোরিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।

18Students

প্রতিবাদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কোরিয়া ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেইউএসইউ) সোমবার একটি প্রচারণা অভিযানের আয়োজন করে। ক্যাম্পেইন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গণমাধ্যম জরিপ বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, “এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় বৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে এবং ক্ষণস্থায়ী প্রলোভন সৃষ্টি করছে।”

প্রতিবাদকারীরা সুনির্দিষ্টভাবে জুং আং ইলবো নামের একটি গণমাধ্যমকে অভিযুক্ত করছে যেটি ১৯৯৪ সাল থেকে নিয়মিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করে আসছে। স্থানীয় আরও দুটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম জোসন ইলবো ও দোং-আ ইলবোও নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল্যায়ন করে থাকে।

আন্দোলনরত কোরিয়া ইউনিভারসিটি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (কেইউএসইউ) এর একজন কর্মীর ভাষ্যমতে, র‍্যাঙ্কিংগুলোতে এমন কিছু বিষয় প্রাধান্য দেয়া হয় যেসবের সাথে শিক্ষা কার্যক্রমের কোন সম্পর্ক নেই। যেমনঃ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাস করে বেশী চাকরী পাচ্ছে, বেশী আয় করছে; কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশী প্রভৃতি। ফলশ্রুতিতে র‍্যাঙ্কিং স্কোর বাড়াতে গিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অগুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করছে। আর এসব অর্থ যোগান দিতে পাল্লা দিয়ে বাড়ানো হচ্ছে টিউশন ফী। শিক্ষার মান বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় কর্তৃপক্ষ আগ্রহ হারাচ্ছে।

কেইউএসইউর বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা এসব র‍্যাঙ্কিং মেনে নিতে পারি না। উচ্চশিক্ষার মান নষ্ট করার যে কোন অপচেষ্টা থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাঁচাতে হবে।”

আন্দোলনের অংশ হিসেবে সংগঠনটি অপর দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আগামী সপ্তাহে কিছু রাজপথ কর্মসূচী ও সংবাদ সম্মেলন আয়োজনেরও ঘোষণা দিয়েছে।