
তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের জন্য প্রস্তুত, ভোটাররাও প্রস্তুত। সবাই প্রস্তুত থাকার পরও যখন কানে কানে কেউ জিজ্ঞেস করে- নির্বাচন কি হবে, তখন বুঝতে হবে এরা গত ১৬ বছরের প্রেতাত্মা।
বুধবার ফরিদপুরের অম্বিকা অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ভোট নিয়ে জনমনে উৎসাহের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, তিনি এ পর্যন্ত যে পাঁচটি জেলায় গেছেন, সব জায়গাতেই ভোট দেওয়ার ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করেছেন। এর একটি বড় কারণ হলো সরকার নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোও ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য তিনি দলগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, বর্তমানে এমন এক সময়ে দেশ দাঁড়িয়ে আছে, যখন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ ও বিগত ৫৪ বছরের বাংলাদেশের মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপন করতে হবে। সেই সংযোগ তৈরি করতে হলে দীর্ঘদিনের জঞ্জাল পরিষ্কার করে ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হবে। এ লক্ষ্যেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখে ভোটারদের দুইটি ভোট দিতে হবে— একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি গণভোটে। ভোট শুধু অধিকার নয়, এটি দায়িত্বও। এবারের গণভোট দেশের পদ্ধতি বদলের সুযোগ এনে দিয়েছে। শুধু ব্যক্তি বদলালে দেশ বদলায় না, পদ্ধতি বদলাতে হবে, যাতে কেউ ক্ষমতায় গিয়ে দানব হয়ে উঠতে না পারে।
সংবিধানে কিছু প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এতে ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’— এই নীতিটি বাস্তবভাবে কার্যকর হবে।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবর্তন আনতে পারবেন জনগণই। অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে এবং জনগণের মতামত জানার জন্য গণভোটের আয়োজন করেছে। নির্বাচিত সরকারকে এসব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, গণভোটের বিষয়গুলো সুষ্ঠুভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন্য আলাদা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, মঙ্গলবার ৪৯৫টি উপজেলায় এবং ৪ হাজার ৫০০টি ইউনিয়নে ‘ভোটের রিকশা’ চালু করা হয়েছে। এসব রিকশার মাধ্যমে রাস্তায় রাস্তায় মানুষকে বোঝানো হবে- পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যাঁ’ বলার কোনো বিকল্প নেই।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আরও বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা এবং বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির জেলা প্রতিনিধিরা।
এর আগে উপদেষ্টা গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে আয়োজিত একটি র্যালিতে অংশ নেন। র্যালি শেষে ভোটের গাড়ির স্ক্রিনে প্রধান উপদেষ্টার গণভোট বিষয়ক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।









































