রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার

নির্বাচন ঘিরে ডিজিটাল লেনদেনে কড়াকড়ি, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানো বন্ধ


Mobile Banking

ফাইল ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত নির্বাচনের সময় টাকার প্রভাব কমানো এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার অপচেষ্টা রুখতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ছয় দিন বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবাসমূহে লেনদেনের ওপর কঠোর সীমা কার্যকর থাকবে।

নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উল্লিখিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। তবে সবচেয়ে বড় কড়াকড়ি থাকছে প্রতিটি একক লেনদেনের ওপর। এখন থেকে একবারে মাত্র এক হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাবে না। অর্থাৎ, বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা কালো টাকার বিস্তার রোধে সহায়ক হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

একই সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলেও বিধিনিষেধ আরও জোরালো করা হচ্ছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে টাকা পাঠানোর সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অনুরোধেই বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এই উদ্যোগ নিয়েছে।

ডিজিটাল মাধ্যমের পাশাপাশি নগদ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রেও শুরু হয়েছে কড়া নজরদারি। বিএফআইইউ সূত্র জানিয়েছে, কোনো ব্যাংক হিসাবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি লেনদেন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে জানাতে হবে। যদি কোনো ব্যাংক সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হয় বা হিসেবে গড়মিল পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যমতে, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী শীঘ্রই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে প্রয়োজনে এই সীমা আরও কমানো বা সময় বাড়ানো হতে পারে।

বর্তমানে যেখানে দিনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা রয়েছে, সেখানে এমন হঠাৎ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে একে যুগান্তকারী মনে করা হচ্ছে।