
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
পবিত্র রমজান মাস শেষে আনন্দ, উৎসব আর ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে দেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। আজ শনিবার (২১ মার্চ) উৎসবমুখর পরিবেশে ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রধান জামাত। এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় ঈদগাহে একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিলেন তারেক রহমান। এর আগে ১৯৮৯–৯০ সালে কাজী জাফর আহমদ দেশের পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর টানা তিন দশকের বেশি সময় ধরে নারীরা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকায় জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে কোনো পুরুষ প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ দেখা যায়নি।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একসঙ্গে ঈদের প্রধান জামাতে অংশগ্রহণকে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমেদ এবং নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতীয় ঈদগাহের জামাতে অংশ নিয়েছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম কেউ এখানে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিলেন।
প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
ঈদের নামাজকে ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহমুখী হন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে জামাত শুরুর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে থেকেই মুসল্লিদের প্রবেশ শুরু হয়। পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা, মৎস্য ভবন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রান্ত থেকে সারিবদ্ধভাবে মুসল্লিদের ঈদগাহে প্রবেশ করতে দেখা যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো ঈদগাহ ময়দান ভরে ওঠে মুসল্লিদের পদচারণায়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর ব্যবস্থাপনায় ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুত করা হয়। জামাতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতা, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, অযু ও নামাজের পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য মেডিকেল টিম ও পর্যাপ্ত অযুখানার সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ছিল নারী মুসল্লিদের জন্য।





































