বৃহস্পতিবার । মার্চ ২৬, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৬ মার্চ ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইরানকে ড্রোন, খাদ্য ও গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া! অস্বীকার ক্রেমলিনের


Russia

বিশ্লেষকদের ধারণা, এস-৪০০ সরবরাহ করলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানকে সহায়তা হিসেবে রাশিয়া ড্রোন, খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠাচ্ছে—এমন দাবি করেছে পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ক্রেমলিন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ইরানকে প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতী সামরিক সহায়তা হিসেবে ড্রোন পাঠাতে শুরু করেছে মস্কো। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানে হামলা চালানোর কয়েক দিনের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে ড্রোন সরবরাহ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

পশ্চিমা গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলতি মাসে ধাপে ধাপে এসব ড্রোন তেহরানে পাঠানো শুরু হয়েছে এবং মাস শেষ হওয়ার আগেই সরঞ্জাম সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এই খবরকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি বলেন, ‌‘এই মুহূর্তে অনেক ভুয়া খবর ঘুরছে। একটি বিষয় সত্য—আমরা ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছি।’

যুদ্ধের কেন্দ্রে ড্রোন
বর্তমান সংঘাতে ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান প্রায় ৩ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের ড্রোন তৈরি ও ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে রাশিয়াও ২০২৩ সাল থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরানি নকশার ভিত্তিতে ড্রোন তৈরি করছে।

এই ড্রোনগুলোকে এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে যাতে সেগুলো সহজে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারে এবং বেশি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে।

তবে রাশিয়া ইরানকে ঠিক কোন ধরনের ড্রোন পাঠাচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। প্রতিবেদনে এক পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, মস্কো সম্ভবত গেরান-২ মডেলের ড্রোন পাঠাচ্ছে, যা মূলত ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

একজন জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাশিয়া শুধু ইরানের যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতেই নয়, তেহরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও বজায় রাখতে সহায়তা করতে চাইছে।

এদিকে ইরান রাশিয়ার কাছ থেকে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার চেষ্টা করছে। গত ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যে ৫০০টি ভার্বা ম্যান-পোর্টেবল লঞ্চ ইউনিট ও ২,৫০০টি নাইনএম৩৩৬ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের একটি চুক্তি হয়, যা তিন বছরে সম্পন্ন হওয়ার কথা।

তবে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের অনুরোধ সত্ত্বেও রাশিয়া এখন পর্যন্ত তাদের অত্যাধুনিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে রাজি হয়নি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এস-৪০০ সরবরাহ করলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এছাড়া এই জটিল ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ইরানি সেনাদের ব্যাপক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, যার ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনারা সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

গত বছর রাশিয়া ও ইরান কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করলেও এতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এনডিটিভি