শুক্রবার । মার্চ ২৭, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

যেসব সুবিধা থাকছে ‘কৃষক কার্ডে’


Farmar-Card

ফাইল ছবি

দেশের কৃষি খাতকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে প্রথমবারের মতো ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রি-পাইলটিং প্রকল্পে ২১ হাজার ১৪ জন কৃষক এই কার্ড পাচ্ছেন। আট বিভাগের ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।

আগামী ১ বৈশাখ এই বহুল আলোচিত উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কোন কৃষকরা পাবেন কার্ড?

প্রতিটি কৃষক পরিবার একটি করে কার্ড পেলেও ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন। নীতিমালা অনুযায়ী জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান দেওয়া হবে, যা দিয়ে— সার, বীজ, কীটনাশক, মৎস্য ও গবাদি পশুর খাদ্য কেনা যাবে।

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ—সব খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন।

কৃষক কার্ডে মিলবে ১০টি সুবিধা

কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, কার্ড পেলে কৃষক পাবেন— ন্যায্যমূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক, সরাসরি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সাশ্রয়ী সেচসুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা, ফসল বিক্রিতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, প্রশিক্ষণ সুবিধা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, রোগবালাই দমন বিষয়ে পরামর্শ ও আধুনিকায়িত কৃষি সেবা গ্রহণের সুযোগ।

পস মেশিনে লেনদেন, সোনালী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

প্রতিটি কৃষকের নামে সোনালী ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হবে এবং দেওয়া হবে একটি ডেবিট কার্ড। সরকারি সহায়তার অর্থ শুধু নির্ধারিত ডিলারের পস মেশিনের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ব্যবহার করা যাবে। এতে অপব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।

এ কার্ড আবার সাধারণ ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে—কৃষক নিজের অর্থ জমা রেখে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারবেন। এতে গ্রামীণ ব্যাংকিং সেবা প্রসারিত হবে।

কত কৃষক এই সুবিধা পাবেন?

প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে: ২১,০১৪ জন কৃষক
চার বছরের পরিকল্পনায়: ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক
অতিরিক্ত সম্ভাব্য: আরও ২,০০০ কার্ড
মুদ্রণ খরচ: ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা
তথ্যসংগ্রহকারী সম্মানি: ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা

প্রাথমিক তালিকায় যেসব এলাকা রয়েছে

পঞ্চগড় সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, টাঙ্গাইল সদর, রাজবাড়ী গোয়ালন্দ, জামালপুর ইসলামপুর, ঝিনাইদহ শৈলকুপা, পিরোজপুর নেছারাবাদ, কক্সবাজার টেকনাফ, কুমিল্লা আদর্শ সদর এবং মৌলভীবাজার জুড়ী।

বড় কৃষকরাও সুবিধা পাবেন

এই কার্ডের মাধ্যমে বড় কৃষকরাও আধুনিক কৃষিযন্ত্র কেনার সুযোগ পাবেন, যা কৃষির যান্ত্রিকীকরণকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে মন্ত্রণালয় মনে করছে।