
সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ
জামায়াতের উদ্দেশে বিজেপি চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, এই যে একটি প্রক্রিয়া সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দাও। সংবিধানকে ছুড়ে ফেলবো কেন? সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় এটি একাত্তরের পরাজয়ের দলিল? এই সংবিধানের নাম নিলে গাত্রদাহ কেন হবে? এতো গায়ে লাগবে কেন? আমি তো পরিবর্তন করতে পারি, কেন ছুঁড়ে ফেলে দেবো?
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে গণভোট ও জুলাই সনদের ওপর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের দেওয়া বক্তব্যের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা কোথা থেকে আসছে—এমন প্রশ্ন তুলে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সচরাচর আমরা যেভাবে সংবিধান পরিবর্তন করি, আমরা সেখানে থাকতে চেয়েছি। আমরা সেভাবে করবো। আপনারা (জামায়াতের উদ্দেশে) বসেন, কথা বলি। গণভোটে ৭০ শতাংশ হ্যাঁ ভোট পড়লেও সংবিধান পরিবর্তনের জন্য ৫১ শতাংশ ভোট আমরাও (বিএনপি জোট) পেয়েছি।
তিনি বলেন, আমাদের জুলাইয়ের বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার একটা পায়তারা দেখতে পাচ্ছি। ঠিক আওয়ামী লীগ সরকারের কথা মনে পড়ে যায়। আমরা যদি কোনো কথা বলতাম, বলেতো- যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমরা বলতাম তেলের দাম কত? বলতো- যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমি অনেকখানি ওই আচারণটা দেখতে পাচ্ছি।
জুলাই সনদের সঙ্গে কোনো সমস্যা না থাকলেও এর প্রক্রিয়া (বাস্তবায়ন) নিয়ে সমস্যা রয়েছে বলে জানান আন্দালিব পার্থ।
তিনি বিরোধী নেতাদের উদ্দেশে এ প্রসঙ্গে বলেন, আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় করতে চাচ্ছেন? আমাদের নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) আগে থেকেই দেওয়া। আপনারা সে সময় (সরকার পতনের পর) বিপ্লবী সরকার করেন নাই কেন? সাধারণ সরকারে গেলেন কেন? অন্তর্বর্তীকালীন বিপ্লবী সরকার করতেন। ছিঁড়ে ফেলে দিতেন সংবিধানকে। নতুন করে সংবিধান বানাতেন। পুরোনো সংবিধানে থেকে আপনারা সংবিধানকেই বাতিল করে দিতে চাচ্ছেন। এটি আসলে হয় না।
বাহাত্তরে সংবিধান তৈরির সময় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমানোর বিষয়টি উল্লেখ করে আন্দালিব রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমাতে গিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিপরিষদের ক্ষমতা অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছি। এ কারণে আমরা অনুধাবন করেছি পরিবর্তনের। আমরা মনে করি পরিবর্তন প্রয়োজন। সংবিধান ও জুলাই সনদকে সমন্বয় করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে জনগণকে বাধ্য করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আপনারা জনগণকে বাধ্য করেছেন।
সংসদে এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এনসিপি আমাদের একটি দল, আমাদের হিরোরা, যারা যুদ্ধ করেছেন, যারা এখানে আছেন, তাদেরকেও বলে দিই—আপনারা জেনজিকে প্রতিনিধিত্ব করেন। জামায়াত জেনারেশন হয়ে যায়েন না। আপনারা ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে আসুন।
জামায়াতের নীতি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, আপনারা তো সারাজীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করে শেষে এসে বলেছেন, আমরা শরিয়া আইন চাই না। সেটাও বলেছেন ভোটের জন্য। আজকে সমস্যা কি? সংবিধানটাকেও আমরা সম্মান করি, জুলাই সনদকেও আমরা সম্মান করি। আমরা ইতিবাচক ভালো কিছু নিয়ে আসবো।
সংসদে জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা সারাজীবন ভারতের বিরুদ্ধে রাজনীতি করে ভারতের সঙ্গে গোপনে মিটিং করছেন। ওটাও তো ম্যানুভার (কৌশলগত পদক্ষেপ)। আপনারা মিটিং করেছেন, দিস ইজ অ্যা গুড কোয়ালিটি।








































