
বৈশাখকে বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা
বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখকে বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। চারুকলাজুড়ে রঙ-তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে লোকজ সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ।
কোথাও আঁকা হচ্ছে রঙিন মুখোশ, কোথাও আবার বাঁশ আর কাঠ দিয়ে নিপুণ কারুকার্যে তৈরি হচ্ছে বিশাল সব মোটিভ। এবারের বৈশাখী শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে পাঁচটি প্রধান মোটিভ— লাল ঝুঁটির মোরগ, দোতারা, ঘোড়া, পাখি এবং শান্তির প্রতীক পায়রা। বৈশাখী সাজে চারুকলাকে সাজিয়ে তোলার এই কর্মযজ্ঞের কিছু খণ্ডচিত্র নিয়ে আজকের ফটো স্টোরি।

তুলির টানে মুখোশ
নিবিষ্ট মনে মুখোশ রাঙাচ্ছেন এক শিক্ষার্থী। গ্রামীণ লোকজ মোটিফে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার পুরো পরিবেশে নিয়ে এসেছে উৎসবের ছোঁয়া।


বাঁশের কাঠামোয় শৈল্পিক রূপ
বাঁশ এবং কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশাল আকৃতির ‘লাল ঝুঁটির মোরগ’। দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় শক্ত কাঠামোগুলো ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

রঙের মেলা
সারিবদ্ধভাবে রাখা মাটির পাত্র ও সরা। লাল, নীল, হলুদ আর সবুজ রঙের মিশ্রণে প্রতিটি শিল্পকর্ম যেন বাঙালির ঐতিহ্যের কথা বলছে।

বিস্ময়ভরা চোখে
চারুকলায় এসেছে এক খুদে সোনামণি। বড়দের নিপুণ হাতে তৈরি বর্ণিল মুখোশগুলো সে অবাক বিস্ময়ে ও গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখছে।

শিল্পীদের কর্মযজ্ঞ
চারুকলার করিডোরে পরম মমতায় সবাই সম্মিলিতভাবে তৈরি করছেন বৈশাখী মুখোশ। দিনরাত এক করে তাঁদের এই হাতের জাদুতেই প্রাণ পাচ্ছে বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রতিটি অনুষঙ্গ।

পটচিত্রের বিশালতা
বিশাল ক্যানভাসে আঁকা রঙিন সব পটচিত্র। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সব গল্প ফুটে উঠেছে এই চিত্রে, যা একাগ্র চিত্তে খুঁটিয়ে দেখছেন এক দর্শনার্থী।

মাটির সরায় লোকজ চিত্র
ছোট ছোট সরায় আঁকা হচ্ছে মাছ, পাখি ও লতা-পাতা। এই সরাগুলো বিক্রি করে সংগৃহীত অর্থ দিয়েই পরিচালিত হয় বৈশাখী শোভাযাত্রার মূল আয়োজন।

শিল্পীর একাগ্রতা
শিল্পী নিপুণভাবে মুখোশে রঙ করছেন এক ছাত্রী। দীর্ঘ পরিশ্রমের পর প্রতিটি মুখোশ যেন একেকটি জীবন্ত চরিত্রে রূপ নিচ্ছে।

সম্মিলিত প্রচেষ্টা
সিনিয়র-জুনিয়র সব শিক্ষার্থীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে চলছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। ক্লান্তিহীন এই কাজের পেছনে রয়েছে বাঙালির ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার এক অদম্য বাসনা।

সৃজনের উল্লাস
নিজের হাতে তৈরি করা বর্ণিল পেঁচার মুখোশটি প্রদর্শন করছেন এক শিক্ষার্থী। উজ্জ্বল রঙের এই শিল্পকর্মে লোকজ ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে আধুনিক সৃজনশীলতা।

শেষ মুহূর্তের পরখ
ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত সারি সারি পেঁচার মুখোশ। প্রতিটি শিল্পকর্ম যেন নিখুঁত হয়, তা নিশ্চিত করতে গভীর মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করে দেখছেন এক তরুণ শিল্পী।

উৎসবের অপেক্ষা
ব্যবহারের জন্য একদম প্রস্তুত সারিবদ্ধ রঙিন মুখোশ। রঙের কাজ শেষ, পলিশ শেষ—এখন শুধু বৈশাখী ভোরে মানুষের হাতে ওঠার অপেক্ষা।
বাঙালির প্রাণের উৎসবকে রঙিন করতে চারুকলার এই শৈল্পিক কর্মযজ্ঞ এখন শেষ পর্যায়ে। বর্ণিল মুখোশ আর বিশাল সব মোটিভের অংশগ্রহণে এবারের বৈশাখী শোভাযাত্রা হয়ে উঠবে উৎসবমুখর ও আনন্দময়।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প











































