
২০২৯ সালের মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাপান
শ্রমসংকটে ভোগা জাপানের বাজারে বড় ধরনের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ২০২৯ সালের মধ্যে দেশটি প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তার অন্তত ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৩ লাখের বেশি দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। এই বিশাল লক্ষ্য পূরণে নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী (SSW) ক্যাটাগরির ১৬টি খাতেই কর্মী পাঠানোর জোর প্রস্তুতি চলছে।
আগে মাত্র ছয়টি খাতে জাপানে কর্মী পাঠানোর সক্ষমতা থাকলেও এখন সবকটি (১৬টি) খাতে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, ২০৪০ সাল নাগাদ জাপানে যে ১ কোটি ১০ লাখ বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন হবে, সঠিক প্রস্তুতি থাকলে তার অর্ধেকই বাংলাদেশ থেকে পাঠানো সম্ভব।
জাপানি সমাজের আস্থা অর্জনে ভাষা শিক্ষা ও উন্নত প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে বিএমইটির অধীনে ৫৩টি টিটিসিতে জাপানি ভাষা শিক্ষা চালু করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এমনকি জাপানি মান নিশ্চিত করতে বিদেশি প্রশিক্ষক আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

শুধু কর্মী নয়, শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রেও বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। ২০২৬ সালে ১০ হাজার শিক্ষার্থী পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমাতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে মাথাপিছু ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চালু করা হয়েছে। জাপানে থাকাকালীন শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা কাজের আইনি সুযোগও পাবেন।
জাপান বাজার ধরতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন এবং টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং শক্তিশালী করা হয়েছে। এমনকি রিক্রুটিং এজেন্টদের জন্য ১৫ লাখ টাকা জমা রাখার কঠোর শর্তও শিথিল করেছে সরকার।







































