
ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ আবারও নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিচ্ছে, যদিও একসময় অনেকেই মনে করেছিলেন সংগঠনটি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ধারণা তৈরি হয়েছিল যে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে সাবেক প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হওয়ায় হিজবুল্লাহ কার্যত ভেঙে পড়েছে। তবে বর্তমানে তারা দক্ষিণ লেবাননে আবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং আগের মতো দুর্বল নয় বলে বিশ্লেষকদের মত।

বিশ্লেষকদের মতে, গোষ্ঠীটি পুনর্গঠিত হয়ে আবার শক্তি সঞ্চয় করেছে, যদিও তাদের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত এবং তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার ওপর—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার ফলাফলের ওপর।
যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল লেবাননে মাঝেমধ্যে হামলা চালিয়ে গেছে, এতে শত শত মানুষ নিহত হয়। মার্চের শুরুতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পর হিজবুল্লাহ আবার সক্রিয়ভাবে পাল্টা হামলা শুরু করে। এরপর থেকে দক্ষিণ লেবাননে তীব্র সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এপ্রিল মাসে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও তা স্থায়ী হয়নি। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা একতরফা যুদ্ধবিরতি মানবে না এবং প্রয়োজনে আবার আত্মঘাতী হামলার মতো পুরোনো কৌশলও ব্যবহার করতে পারে।
একই সময়ে, লেবানন-ইসরায়েল সরাসরি আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাসহ দুইটি বড় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলছে, যা হিজবুল্লাহর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি কোনো অপমানজনক চুক্তি মেনে নেবেন না।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর বর্তমান নেতা নাইম কাশেম সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করেছেন এবং তা লেবাননের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহ এখনও ইরানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ইরানও গোষ্ঠীটিকে তাদের আঞ্চলিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখে, তাই তাদের সমর্থন বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তবে অভ্যন্তরীণভাবে হিজবুল্লাহ লেবাননের সব জনগোষ্ঠীর সমর্থন পায় না, বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের বাইরে তাদের জনপ্রিয়তা সীমিত। সব মিলিয়ে, সামরিকভাবে এখনও শক্তিশালী থাকলেও হিজবুল্লাহর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে চলমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক আলোচনার ফলাফলের ওপর।
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল










































