বুধবার । মে ১৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক লাইফস্টাইল ১৩ মে ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

প্রয়াণ দিবস

গণমানুষের প্রেরণার কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য


Sukanto

সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৫ আগস্ট ১৯২৬ – ১৩ মে ১৯৪৭)

সময়টা ১৯৪৭ সাল। মে মাসের মাঝামাঝি কলকাতার যাদবপুর লাউডন স্ট্রিটের একটি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন একুশ বছরের এক মুমূর্ষু কিশোর। সেই কিশোর আর দশজন সাধারণ কিশোরের মতো নন। তিনি কবিতা লেখেন, স্বাধীনতা আর সাম্যের স্বপ্ন দেখেন। তিনি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য।

সুকান্তের জন্ম হয়েছিল ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার মহিম হালদার স্ট্রিটে- নানার বাড়িতে, যদিও তাদের পৈত্রিক বাড়ি ছিলো বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার ঊনশিয়া গ্রামে। কলকাতায় ছোট পরিসরে পরিচালিত একটি প্রকাশনা ও বিক্রয়কেন্দ্রের স্বত্বাধিকারী ছিলেন তাঁর বাবা নিবারণ ভট্টাচার্য। আর তাঁর মায়ের নাম ছিলো সুনীতি দেবী। জন্মের পর থেকে তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছিল কলকাতার ৩৪ হরমোহন ঘোষ লেনের বাড়িতে।

খুব ছোট বেলা থেকেই সুকান্তের মধ্যে সাহিত্য প্রতিভার দীপ্তি দেখা গিয়েছিল। মাত্র আট-নয় বছর বয়স থেকেই তাঁর লেখা গল্প আর কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে–কখনও বিদ্যালয়ের সাময়িকীতে, আবার কখনওবা সাহিত্য সাময়িকী, সাপ্তাহিক আর দৈনিক পত্রিকায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে লেখালেখির পাশাপাশি তিনি রাজনীতির সাথেও জড়িয়ে পড়েন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পদ লাভ করেন। রাজনীতি আর সাহিত্যে তিনি এতোটাই নিমগ্ন হয়ে পড়েন যে ১৯৪৫ সালে অনুষ্ঠিত প্রবেশিকা পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারেননি। আর এভাবেই তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে।

সুকান্তের সাহিত্য মূলত নিপীড়িত মুক্তিকামী গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা আর দ্রোহের প্রতিধ্বনি। কখনও তিনি তার ‘সিগারেট’ শিরোনামে কবিতায় সমাজের নির্যাতিত মানুষকে জ্বলে-পুড়ে শেষ হওয়া সিগারেটের মধ্যে দেখতে পেয়েছেন। আবার কখনওবা তার কাছে পথিবীর ’ক্ষুধার রাজ্যে’ পূর্ণিমার চাঁদকে ‘ঝলসানো রুটি’র মতো মনে হয়েছে। তার এসব কবিতায় গণমানুষের কথা এক অনন্য মাত্রা পেয়েছে।

১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ প্রায় দুশো বছরের ব্রিটিশ সাম্রাজবাদী শাসনের হাত থেকে স্বাধীনতা পেয়েছিলা। কিন্তু সুকান্ত সেই স্বাধীনতা দেখে যেতে পারেননি। স্বাধীনতার মাত্র তিন মাস আগে ১৯৪৭ সালের ১৩ মে সাম্য ও স্বাধীনতার স্বপ্নে দীপ্ত কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ম্যালেরিয়া ও দুরারোগ্য যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত অবস্থায় কলকাতার রেড অ্যান্ড কিওর হোমে মারা গেলেন।

আজও যখন পথিবীর নানা জায়গায় অভুক্ত, নিপীড়িত আর অসহার মানুষ তার অধিকারের জন্য সোচ্চার হয়, ঠিক তখনই সুকান্তের কবিতা আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। আর তাই কবি সুকান্তের মৃত্যু হলেও তার সাহিত্য আজও গণমানুষের প্রেরণা হয়ে বেঁচে আছে।