
তৃণমূল সুপ্রিমো ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলীয় বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা এবং ‘দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক হলেন সন্দীপ সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, তৃণমূলের মনোনয়নে নির্বাচিত হওয়ার পরও তারা বারবার দলীয় নেতৃত্বের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিত থেকেছেন। পাশাপাশি দলীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং এমন কিছু বক্তব্য ও কার্যকলাপে জড়িয়েছেন, যা দলের ভাবমূর্তি ও স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।
দলের সহ-সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সই করা ওই চিঠিতে জানানো হয়, বিষয়টি পর্যালোচনার পর দলীয় কর্তৃপক্ষ তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অবিলম্বে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়, যখন রোববার কলকাতায় তৃণমূলের বিধায়ক দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক উপস্থিতির অভাবে বাতিল করতে হয়। মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬১ জনই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় বৈঠকে ব্যাপক অনুপস্থিতি এবং পরদিন দুই বিধায়কের বহিষ্কার তৃণমূলের ভেতরে চলমান অসন্তোষ ও মতবিরোধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে জমা দেওয়া একটি চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের তদন্ত করছে সিআইডি। এ বিষয়েই মূলত বৈঠকটি ডাকা হয়েছিল।
বহিষ্কারের আদেশ জারির একদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, সন্দীপ সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা মনোনয়ন সংক্রান্ত ‘ভুয়া স্বাক্ষর’ মামলায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল













































