
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর আদাবর এলাকায় এক বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা লুটের ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের অভিযানের সময় ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হয়েছেন থানার ওসিসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে শীর্ষ দুই ছিনতাইকারী। এই ঘটনায় মোট চারজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। আদাবরের শেখেরটেক ৭ নম্বর সড়কের মাথায় শফিকুল ইসলাম (৩৯) নামের এক বিকাশ এজেন্ট মাত্রই দোকান খুলেছিলেন। এমন সময় হঠাৎ ৪-৫ জনের একদল সশস্ত্র তরুণ চাপাতি উঁচিয়ে দোকানে ঢুকে ক্যাশ বাক্সে হাত দেয়। শফিকুল বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তার মাথা ও বাম হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এরপর ক্যাশে থাকা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ও বিকাশের মোবাইল ফোনটি নিয়ে চম্পট দেয়। রক্তাক্ত শফিকুলকে উদ্ধার করে দ্রুত পঙ্গু হাসপাতালে (নিটোর) ভর্তি করা হয়, যেখানে বর্তমানে তার অস্ত্রোপচার চলছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত কিশোর গ্যাং ‘কবজি কাটা গ্রুপ’। আদাবর, শ্যামলী ও মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান, নবীনগর ও চন্দ্রিমা হাউজিংসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল।
সকালের এই দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে পুলিশ। বিকেল ৪টার দিকে আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে অপরাধীদের আস্তানায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অবরুদ্ধ অপরাধীরা আত্মসমর্পণ করার পরিবর্তে ধারালো অস্ত্র ও চাপাতি নিয়ে সরাসরি পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের আকস্মিক ও নৃশংস চাপাতির আঘাতে গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত হন আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম এবং এসআই তরুণ।
সহকর্মীদের ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলার মুখে পুলিশ নিজেদের জীবন রক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। পুলিশের গুলিতে মুহূর্তের মধ্যে লুটিয়ে পড়ে দুই ছিনতাইকারী। পরে ঘটনাস্থল থেকেই চারজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— এলাকায় ‘চোরা রুবেল’ ও ‘কানা আমির’ নামে পরিচিত দুই গুলিবিদ্ধ শীর্ষ অপরাধী এবং তাদের সহযোগী কাশেম ও মো. জয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আত্মরক্ষার্থেই পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ ছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির অন্য সদস্যদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।















































