sentbe-top

বাংলাদেশের পেশাজীবী দশ নারী আইকন

10 iconকখনো অগ্রণী, কখনো আবার অনুগামী হিসেবে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে উঠে আসছেন নারীরা। কোনো রকম উত্তরাধিকার নয়; মেধা ও নিষ্ঠার সুবাদেই তাদের এ অর্জন। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যেমন সামলাচ্ছেন, তেমনি নারী রয়েছেন বিচার ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পদেও। বহুজাতিক করপোরেট সংস্থার কাণ্ডারির ভূমিকায়ও রয়েছেন দেশের নারীরা। সফলতার মন্ত্র হিসেবে একালের সর্বজয়ারা বলছেন সততা ও স্বাধীনচেতা মনোভাবের কথা।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রথম নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। ১৯৫০ সালের ৮ জুলাই মৌলভীবাজার জেলায় জন্মগ্রহণকারী নাজমুন আরা সুলতানার বাবার নাম চৌধুরী আবুল কাসেম মহিউদ্দিন ও মা রাশিদা সুলতানা দীন।

ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে এসএসসি ও ১৯৬৭ সালে মুমিনুন্নেসা উইমেন্স কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন এ নারী। আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৬৯ সালে। এর পর মোমেনশাহী ল’ কলেজ থেকে ১৯৭২ সালে অর্জন করেন এলএলবি ডিগ্রি।

ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতে নিবন্ধিত হয়ে নাজমুন আরা সুলতানা আইন পেশায় নামেন ১৯৭২ সালের জুলাইয়ে। ১৯৭৫ সালে মুনসেফ পদে যোগদানের মাধ্যমে বিচারক হিসেবে আবির্ভূত হন। ১৯৯০ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলা ও দায়রা জজ পদে উন্নীত হন। এর পর হাইকোর্টে প্রথম নারী বিচারপতি নিয়োগপ্রাপ্ত হন ২০০০ সালের ২৮ মে। বিচারপতি পদে তিনি স্থায়ী হন দুই বছর পর, ২০০২ সালের ২৮ মে। এখানেই থেমে যায়নি তার অগ্রযাত্রা। দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। শুধু তা-ই নয়, আপিল বিভাগের ২ নম্বর বেঞ্চের নেতৃত্বের দায়িত্বও দেয়া হয় তাকে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রথম নারী সচিব সুরাইয়া বেগম, এনডিসি। তিনি মনে করেন, কারো সংকল্প থাকলে সে এগিয়ে যাবে। নারী হিসেবে কোনো বাধা তাকে আটকাতে পারবে না। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, পারিপার্শ্বিকতাসহ নানা কারণে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অগ্রযাত্রা কিছুটা কঠিন। তবে চেষ্টা থাকলে কোনো বাধাই তাকে আটকে রাখতে পারবে না।

বেসামরিক প্রশাসনের প্রথম নারী কর্মকর্তা হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি) সম্পন্ন করেছেন সুরাইয়া বেগম। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস উইমেন্স নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানও এ দক্ষ আমলা।

সুরাইয়া বেগম মনে করেন, সবসময় নিজের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে ও সে অনুযায়ী কাজ করলে সর্বক্ষেত্রে মূল্যায়ন পাওয়া যাবে। নারী হিসেবে অবমূল্যায়ন হওয়ার সুযোগ কম।

সুরাইয়া বেগম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারে যোগদান করেন ১৯৮৩ সালে। চাকরিজীবনে তিনি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ, সংস্থা ও বিদেশী মিশনে কর্মরত ছিলেন। তিনি পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সমবায় অধিদফতর, অর্থ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মুশফেকা ইকফাত্। খাদ্য মন্ত্রণালয়ে তিন বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ সময় সরকারি খাদ্য সংগ্রহ ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানও রেখেছেন। তার দক্ষ নেতৃত্বে চালের বাজার ছিল স্বস্তিতে। নিরাপদ খাদ্য আইন প্রণয়ন ও শ্রীলংকায় চাল রফতানির সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।

প্রশাসনে নারীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন বলে মন্তব্য করেন এ পদস্থ আমলা। তার ভাষায়, কর্মক্ষেত্রে পুরুষ সহকর্মীদের উত্সাহ-উদ্দীপনা নারীদের আরো বেশি সফলতা এনে দিতে পারে।

মুশফেকা ইকফাত্ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনপ্রশাসন বিষয়ে সম্মানসহ মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া কানাডার কার্লটন ইউনিভার্সিটি থেকে জনপ্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পিয়ারসন ফেলোশিপ অর্জন করেন। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে যোগদান করেন। ১৯৮৩ সালে সহকারী কমিশনার হিসেবে ঢাকা কালেক্টরেটে যোগ দেন। মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন পরিসরে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পর তিনি শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সমবায় অধিদফতরে রেজিস্ট্রার হিসেবেও নিযুক্ত হয়েছিলেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম, এনডিসি। ১৯৮৩ সালে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। তার ব্যাচেই প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম নারীদের সুযোগ দেয়া হয়। ৩০ বছরের চাকরিজীবনের প্রায় ১৯ বছরই মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করেছেন নাসিমা বেগম। বাকি সময় নিজের কর্মদক্ষতা দেখিয়েছেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায়। ২০০৩ সালে উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দেখিয়েছেন নিজের যোগ্যতা। ২০০৯ সালে যুগ্ম সচিব হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। কর্মদক্ষতায় ২০১৪ সালে সচিব হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়। সচিবের দায়িত্ব পালনের আগে তিনি সমাজকল্যাণ অধিদফতরে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন নাসিমা বেগম, এনডিসি।

কর্মক্ষেত্রের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নারীকে এগিয়ে যেতে হয় বলে মন্তব্য করেন নাসিমা বেগম, এনডিসি। তিনি বলেন, এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মানসিকতা নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করলে যত বাধাই আসুক, তা অতিক্রম করে নারীরা এগিয়ে যেতে পারে।

মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. শেলীনা আফরোজা। ১৯৮৩ সালে প্রশাসন ক্যাডারে অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা ড. শেলীনা আফরোজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগ থেকে সম্মানসহ এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এমফিল ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়,  স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বিদ্যুত্ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন এ নারী। এছাড়া তিনি রাশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশনেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে পুরুষের দ্বিগুণ কৃতিত্ব না দেখালে নারীদের সত্যিকারের সফলতা আসে না। এজন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। সততা ও কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে নিজের মেধার পরিচয় দেয়া গেলে সাফল্য অবশ্যই আসবে। ভবিষ্যতে নারীরা আরো এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম নারী পুলিশ সুপার ও প্রথম অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক ফাতেমা বেগম। বর্তমানে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর হিসেবে কর্মরত এ নারী। ১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি তিনি পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর অতিরিক্ত আইজিপির দায়িত্ব পান।

কর্মজীবনের শুরুটা খুব একটা মসৃণ ছিল না ফাতেমা বেগমের। তিনি জানান, বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে সুযোগ পাওয়ার পর তত্কালীন আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র সচিব বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারেননি। তারা পেশা পরিবর্তন করতে তাকে নানাভাবে চাপও প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে তিনি পুলিশের বড় কর্মকর্তার পদে আসতে পারেন।

দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলাম। জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। ১৯৭৩ সালে মাধ্যমিক ও ১৯৭৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে যথাক্রমে ১৯৮০ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৮২ সালে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৮২ সালের ২০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার শিক্ষকতা জীবন শুরু। ১৯৮৬ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামাজিক নৃবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।

পেশাজীবী সফল এ নারী বলেন, ‘অন্যান্য নারীর মতো আমাকেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমি ছোটবেলা থেকেই আমার মতো করে স্বাধীনভাবে কাজ করা পছন্দ করতাম। এ কারণেই হয়তো এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি।’

‘কাজের কোনো বিকল্প নেই। কাজের মাধ্যমেই নারীর যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে। বেশি কাজ করেই এগিয়ে যেতে হবে’— এমন ধারণা পোষণ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা। তিনি বলেন, নারীরা পারে না, এ ভুল ধারণা রোধ করে বেশি কাজ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে নিজের নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক আগেই এ পদে নারী নিয়োগের সুযোগ ছিল। নারীদের এগিয়ে যেতে এখনো অনেক বাধা আছে, তবে কমে আসছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম নারী ডেপুটি গভর্নর হিসেবে ২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি নিয়োগ পান নাজনীন সুলতানা। এর আগে তিনি একই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন শেষে অবসর-পূর্ব ছুটিতে ছিলেন। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে কম্পিউটার উপবিভাগে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন তিনি। নাজনীন সুলতানা শিক্ষাজীবন শুরু করেন রোকেয়া মেমোরিয়াল স্কুলে। পরে ভর্তি হন মতিঝিল গভর্নমেন্ট গালর্স হাইস্কুলে। সেখান থেকে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকসহ মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী। বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের প্ল্যানিং ম্যানেজার হিসেবে ১৯৯০ সালে কাজ শুরু করেন। এর পর দীর্ঘ ১৭ বছর বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং, সেলস, ডিস্ট্রিবিউশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে দায়িত্ব নেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের। এখনো এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই আছেন। বার্জারেরই শতভাগ সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেনসন অ্যান্ড নিকোলসন (বাংলাদেশ) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকও তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজসেন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে এমবিএ করার আগে রূপালী চৌধুরী অনার্স করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনার্সের বিষয় ছিল ক্যামিস্ট্রি। এর আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন শশাঙ্কমালা প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয় ও আবদুর রহমান গার্লস হাই স্কুল থেকে।

রূপালী চৌধুরী বলেন, নারী সফলতার অন্যতম উপাদান দৃঢ় মানসিকতা। পেশাগত জীবনের পুরো সময়টা তার খুব মসৃণ ছিল না। আর সব নারীর মতোই অনেক সমস্যার মুখোমুখি তাকে হতে হয়েছে। কিন্তু উপরে ওঠার দৃঢ় মানসিকতা তাকে স্বপদে আসতে সহায়তা করেছে। কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, বার্জারে কয়েক দফা ইন্টারভিউ আমাকে দিতে হয়েছে। তবে বর্তমান অবস্থানের পেছনে পরিবারই ছিল সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। পরিবারের মধ্যে বাবা, ভাই ও স্বামীর অনুপ্রেরণা বিশেষ করে উল্লেখ করার মতো। এর পরই বলতে হয় সহকর্মীদের কথা। আর সবার অনুপ্রেরণা কাজে লাগাতে পেরেছি জীবনযাপনে নিজস্ব স্বাধীন মানসিকতার কারণে। পটিয়ায় শিক্ষাজীবন শুরু করে আজকের এ অবস্থানে আমি যখন আসতে পেরেছি, তখন যে কোনো দৃঢ় মানসিকতার মেয়ে মানুষের পক্ষে এটা সম্ভব।

নারীর সফলতায় নিজেদেরই এগিয়ে আসতে হবে। নিজের পথ নিজেকেই করে নিতে হবে। কারো আশায় বসে থাকলে সফলতা আসবে না বলে মনে করেন মাইক্রোসফট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সোনিয়া বশির কবির। তার মতে, প্রতিষ্ঠিত হতে হলে স্বপ্ন দেখতে হবে।

সোনিয়া বশির কবির বলেন, তথ্য-প্রযুক্তিই হতে পারে নারীমুক্তির হাতিয়ার। দেশে প্রযুক্তি খাতে গত কয়েক বছরে যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। পাশাপাশি খাতটিতে নারীর অংশগ্রহণও বাড়ছে। মেধা থাকলে ও পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক বোঝাপড়ায় যে কোনো নারী এক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, নিজেকে মেয়ে কিংবা নারী ভেবে গুটিয়ে না থেকে সবার সঙ্গে সহজে মিশতে পারলে অনেক সমস্যার আপনা থেকেই সমাধান হয়। তবে এজন্য প্রয়োজন দৃঢ় আত্মবিশ্বাস। ঘরে বসে করা সম্ভব, এমন কাজের ক্ষেত্রে আউটসোর্সিংয়ে যুক্ত হতে পারেন নারীরা।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী সোনিয়া বশির এইচএসসিতে মেধা তালিকায় ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন। এর পরই পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ইহতিশাম কবিরের সঙ্গে। স্বামী ইহতিশাম কবির যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে চাকরি করতেন। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে সেখানেই পাড়ি জমান সোনিয়া বশির কবির। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান্টা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন সোনিয়া বশির কবির। পড়াশোনা শেষ করে সিলিকন ভ্যালিতেই কাজ শুরু করেন। পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ শেষে ওরাকলে কাজ শুরু করেন সোনিয়া বশির কবির। পরে যোগ দেন সান মাইক্রো সিস্টেমে। যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে ১৫ বছর কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সোনিয়া বশির কবির গত বছরের জুনে যোগ দেন মাইক্রোসফটে।

বাংলাদেশ উইমেন ইন আইটির (বিডব্লিউআইটি) সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সোনিয়া বশির কবির। তিনি দি ইন্ডাস এন্ট্রাপ্রেনিউরস (টিআইই) বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড মহিলা শাখা ও আবাহনীর নারী ক্রীড়া উন্নয়ন কমিটির সদস্য সোনিয়া বশির কবির স্কুলজীবন থেকেই ক্রিকেট ও ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলার সঙ্গে যুক্ত। বণিকবার্তা।

sentbe-top