sentbe-top

বিখ্যাতদের কাতারে আসছে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতাগুলো

base_1468251038-Untitledদ্রুত উঠে আসছে চীনের স্থানীয় হ্যান্ডসেট উত্পাদকরা। শিগগিরই শীর্ষ স্মার্টফোন নির্মাতার স্থান চীনা কোম্পানিগুলো দখলে নেবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। চীনা ব্র্যান্ড এ শিল্পে চলে আসবে বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাতারে। খবর চায়না ডেইলি।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে চীনে ডিভাইস বিক্রির ১৭ দশমিক ৩ শতাংশই ছিল দেশী কোম্পানি হুয়াওয়ের দখলে। এর পরের অবস্থান থাকে ভিভো, অপো ও শাওমির দখলে। এসবই স্থানীয় ব্র্যান্ড। চীনে অ্যাপলের অবস্থান নেমেছে পঞ্চমে। মে মাসে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির দখলে ছিল মাত্র ১০ দশমিক ৮ শতাংশ বাজার। বছর তিনেক আগে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ বাজার দখলে নিয়ে চীনে শীর্ষ মোবাইল ভেন্ডর ছিল স্যামসাং। গত বছরের শুরুতে দ্বিতীয় শীর্ষস্থান কব্জা করে অ্যাপল। চীনা স্মার্টফোনের বাজারে বিপ্লব ঘটায় শাওমি। ২০১৪ সালে শাওমিসহ অন্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রবেশ করে। ওই বছর শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারে শাওমির অভিষেক নয়, বৈশ্বিক সেলফোনের বাজার দখলে শীর্ষ পাঁচে পৌঁছে যায় প্রতিষ্ঠানটি।

প্রযুক্তি শিল্প গবেষণা কোম্পানি স্ট্র্যাটেজি অ্যানালাইটিকস পরিসংখ্যানে হুয়াওয়ে ও শাওমিকে নেতৃত্বে এগিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির তালিকায় শীর্ষ পাঁচে খোঁজ মেলেনি স্যামসাংয়ের। তালিকায় শীর্ষ ১০ ব্র্যান্ডের আটটিই চীনের। ২০১১ সালে তা ছিল চারে। আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কানাকর্ড জেনুইটি সম্প্রতি গত বছরের তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারের ২৩ দশমিক ৯ ও ১৭ দশমিক ২ শতাংশ ছিল যথাক্রমে স্যামসাং ও অ্যাপলের দখলে। চীনা ব্র্যান্ডের আধিপত্যের কারণ অনুসন্ধান করেছে সংবাদ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস। সংস্থাটি বলছে, এ ব্র্যান্ডগুলো বাজারে প্রবেশ করছে সস্তা বাজেটের ডিভাইস সঙ্গী করে। ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেকেই ঝুঁকছেন এদিকে। সস্তাদরের বেশির ভাগ স্মার্টফোন স্যামসাং গ্যালাক্সি অথবা আইফোনের মতো কাজ করে বলে জানিয়েছে ফোর্বস। তবে শাওমি ও হুয়াওয়ের মতো কোম্পানি গুরুত্ব দিয়েছে মানের দিকে। তাই স্থানীয় ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণে খুব বেশি সময় লাগেনি।

চাইনিজ টেলিকম পোর্টাল সাইট সিসিটাইমসের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্লেষক শিয়াং লিগাং বলেন, স্থানীয় উত্পাদকরা উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে গুরুত্ব দিয়েছে মানে। পাশাপাশি বিক্রয়-পরবর্তী সেবাও দিচ্ছে। এক্ষেত্রে স্যামসাং ও অ্যাপলের মডেলের সঙ্গে একমাত্র পার্থক্য থেকে যাচ্ছে দামে। শিয়াং আরো বলেন, বিপণন কৌশল পৃথক হলেও শিল্পে তাদের সঙ্গে তুলনা করার মতো কেউ নেই। চীনে স্যামসাংয়ের ডিভাইস বিক্রি কমছে তিন বছর ধরে। দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্ট বলছে, তাদের রাজস্ব আয়ে এ বাজারের অবদান মাত্র ১৫ শতাংশ। অ্যাপলের অবস্থাও এর চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) মার্কিন আইফোন নির্মাতার আয় ২৬ শতাংশ কমেছে। চীনে বিক্রি কমাই এর কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইয়াহু বলছে, ‘চীনে অ্যাপল মৃত্যু পথযাত্রী।’ তবে চীনে আধিপত্য কমা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবনমনের একমাত্র কারণ নয়। পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক জটিলতায় অনেক দিন ধরেই জর্জরিত অ্যাপল। হুয়াওয়েও মে মাসে স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে পেটেন্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।

শিয়াং এ বিষয়ে বলেন, প্রযুক্তিতে নতুন দিক উন্মোচন করছে চীনের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে কে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে আমরা জানি না। তবে এখন অগ্রগতির শুরুর সীমানাতেই রয়েছে চীনা প্রযুক্তি।বণিক বার্তা।

sentbe-top