cosmetics-ad

ছক্কা নাঈমের লুকানো কষ্ট

naeem-islam

২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দল যখন বিপদে, তখন হাল ধরেছিলেন নাঈম ইসলাম। ছক্কা মেরেছিলেন ৪টি। ৭৩ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ১ উইকেটের জয় উপহার দেন। সে বছরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে পার্টটাইম বোলার মার্শাল আইয়ুবকে এক ওভারে ৬ বলে ৬টি ছক্কা মেরে ‘ছক্কা নাঈম’ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন তিনি।

চলতি জাতীয় ক্রিকেট লিগে সদ্য সমাপ্ত পঞ্চম রাউন্ড শেষে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট প্রথমবারের মতো ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন নাঈম ইসলাম। ৫ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরিতে ৯২ গড়ে তিনি রান করেছেন ৩৬৮। এখন পর্যন্ত লিগের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও তিনি।

অসাধারণ ব্যাটিং করা এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান বাংলাদেশের জার্সি শেষ গায়ে জড়িয়েছেন ২০১৪ সালে। এরপর ধারাবাহিকভাবে ঘরোয়া লিগে ভাল করলেও নির্বাচকদের নজরে আসতে পারেননি।

এরপরও জাতীয় দল তো দূরে থাক, ডাক পাননি কক্সবাজারে আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে চলমান সিরিজে বাংলাদেশ ‘এ’ দলে। এ নিয়ে মনের গভীরে লুকিয়ে রয়েছে চাপা ক্ষোভ এবং কষ্ট। সেই কষ্ট আর ক্ষোভের কথাই জানালেন নাঈম ইসলাম।

জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে কষ্টের কথা জানাতে গিয়ে নাঈম বলেন, ‘এটা (কষ্ট) তো ভাই যে কোন খেলোয়াড়ের মধ্যে থাকাটাই স্বাভাবিক। যদি কারো মধ্যে না থাকে, তবে সেটা অস্বাভাবিক মনে হবে। কেউ প্রকাশ করে আর কেউ প্রকাশ করে না, এটাই পার্থক্য।’

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরে কোন দল পাননি এক সময়ের মারকুটে এই ব্যাটসম্যান। গত আসরে যিনি একটা দলের (রংপুর) অধিনায়কও ছিলেন। সেই কষ্ট ভোলেন কি করে নাঈম! সেটা নিয়েও তার মনের গভীরে রয়েছে যথেষ্ট কষ্ট।

কষ্ট প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কষ্টতো থাকবেই। কারণ, এই বছর অন্তত আমি আশা করি নাই যে, দল পাবো না। কারণ আমার প্রিমিয়ার লিগটা আল্লাহর রহমতে যথেষ্ট ভাল গেছে। প্রিমিয়ার লিগ এ রকম খেলার পর, যখন আমি দল পাবো না, তখন ব্যাপারটায় খুব অবাক হয়েছি।’

এত কষ্টের কারণেই হয়তো হতাশাটা চেপে রাখতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। দীর্ঘঃশ্বাস ফেলে বললেন, ‘যাই হোক, মনে হয় আমার মধ্যেই কমতি ছিল। আরও যদি ভাল খেলতাম, তাহলে হয়তো দল পেতাম। দোষ আমারই। কারণ ভাল খেলতে পারিনি। ইনশা আল্লাহ চেষ্টা করবো সামনে যেন এটাকে কাটিয়ে উঠতে পারি।’

প্রায় তিন বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটার এখন আর জাতীয় দল নিয়ে চিন্তাই করছেন না। হয়তো নির্বাচকদের অবহেলা থেকেই এমনটা হয়েছে। তিনি শুধু নিজের খেলাতেই মন দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধার এই ক্রিকেটার বলেন, ‘জাতীয় দল-টল এসব নিয়ে চিন্তা করি না। এসব জায়গায় তো চিন্তা করে আমি কিছু করতে পারবো না। কারণ এটা তো আমার চিন্তার বাহিরে। আমি এটার জন্য যা করার দরকার, পারফর্ম করা দরকার সেটা করতে পারি। জাতীয় দলে আমি চাইলেই ঢুকতে পারবো না। বা আমি বললাম, পারফরম করতেছি আমাকে নিয়ে নেন। বললেই হবে না। কিন্তু আমি নিজের কাজটাই করতে পারি। নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করতে পারি, ভাল পারফরম করার জন্য।’

জাতীয় লিগে ডাবল সেঞ্চুরি করার পর কেমন লেগেছিল বা কিভাবে করলেন? জানতে চাইলে হাসিমুখে নাঈম বললেন, ‘জ্বী ভাল লাগছে ভাই। আসলে আমার অনেকদিনের একটা ইচ্ছা ছিল, একটা ডাবল সেঞ্চুরি করার। আর যখন সে ইচ্ছেটা পূরণ হয়, তখন আসলে ফিলিংসটা বলে বুঝানো যায় না।’

মনের গভীরে লুকানো কষ্ট নিয়ে আপাতত নাঈম ইসলাম নিজ বাসাতেই অবসর কাটাচ্ছেন। জাতীয় লিগও বন্ধ আর বিপিএলে নেই তার কোন দল। কিছুদিন পর কিছু ফিটনেস ট্রেনিং করবেন এটাই এখন তার মূল লক্ষ্য। জাগো নিউজ