Search
Close this search box.
Search
Close this search box.

ঢাকাকে পাত্তাই দিল না সিলেট

sylhetব্যাট-বলের দারুণ পারফরম্যান্সে বিপিএলের পঞ্চম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকাকে উড়িয়ে দিয়েছে সিলেট সিক্সার্স। সাকিব আল হাসানের দল হেরেছে নাসির হোসেনের কাছে। ৯ উইকেটের বড় জয়ে বিপিএলের যাত্রা দারুণ করেছে সিলেট।

শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের অভিষেক ম্যাচ রাঙিয়ে রাখল সিলেট সিক্সার্স। ব্যাটিং, বোলিং- কোনো বিভাগেই সিলেটের সামনে দাঁড়াতে পারেনি ‘হেভিওয়েট’ দল ঢাকা। টস জিতে নাসিরের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে সাকিবের ঢাকা ৭ উইকেটে ১৩৬ রানের বেশি করতে পারেনি। জবাবে ১৯ বল ও ৯ উইকেট হাতে রেখে সহজেই জয় নিশ্চিত করে সিলেট। ঘরের মাঠে দুর্দান্ত শুরু করে বিপিএল শুরুতেই জমিয়ে তুলল সিলেট।

১৩৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ১২৫ রান তোলেন সিলেটের দুই বিদেশি ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার ও উপুল থারাঙ্গা। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই ৫১ রান তুলে নেন দুই ওপেনার। জুতির শতরান পেতেও বেগ পেতে হয়নি তাদের। ১০ ওভার শেষে তাদের রান ছিল ৮৩। কোনো বোলারকেই পাত্তা দেননি তারা।

দারুণ ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতায় দশ উইকেটেই জয় পেতে যাচ্ছিল সিলেট। কিন্তু জয়ে থেকে মাত্র ১২ রান দূরে থাকতে ফ্লেচার ইংলিশ স্পিনার আদিল রশিদের বলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন। ৫১ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৩ রান করেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যান। জয়ের বাকি কাজটুকু সারেন থারাঙ্গা ও সাব্বির রহমান। ৪৮ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৬৯ রান করে জয় নিয়ে মাঠে ছাড়েন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক থারাঙ্গা। সাব্বির অপরাজিত থাকেন ২ রানে।

এর আগে ঢাকাকে প্রথম ওভারেই ধাক্কাটা দেন সিলেটের অধিনায়ক নাসির। মেহেদী মারুফ নাসিরের অফ স্টাম্পের বাইরের বল টেনে সুইপ করতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন। শুরুর ধাক্কাটা দ্বিতীয় উইকেটে সামলে নেন কুমার সাঙ্গাকারা ও এভিন লুইস। পাওয়ার প্লের প্রথম ৬ ওভারে ৪৩ রান জমা করে ঢাকা।

chardike-ad

অষ্টম ওভারে আবারও সিলেটের দর্শকদের আনন্দে ভাসান নাসির। ওভারের চতুর্থ বলে স্লগ সুইপে বল গ্যালারিতে পাঠান লুইস। পরের বলেই বদলা নেন নাসির। এগিয়ে এসে লং অফ দিয়ে বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আবুল হাসানের হাতে ক্যাচ দেন ২৪ বলে ২৬ রান করা লুইস। দলীয় ৫৬ রানে লুইসের উইকেট হারানোর পর স্কোর ৯৮ রানে যেতেই আরো ৩ উইকেট হারায় ঢাকা।

সর্বোচ্চ ৩২ রান করা কুমার সাঙ্গাকারা আউট হন লিয়াম প্লাঙ্কেটের বলে। মোসাদ্দেক হোসেন রানআউটে কাটা পড়েন সাকিবের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে। টিকতে পারেনি টি-টোয়েন্টি ফেরি করে বেড়ানো কাইরন পোলার্ডও। সিলেটকে পোলার্ডের উইকেটে এনে দেন পেসার আবুল হাসান। ডানহাতি এ পেসারের স্লোয়ার বল উঠিয়ে মারতে গিয়ে লং অফে নাসিরের হাতে ক্যাচ দেন পোলার্ড।

বল-প্রতি রান তুলে ঢাকার আশা টিকিয়ে রেখেছিলেন অধিনায়ক সাকিব। কিন্তু প্লাঙ্কেটের বলে সাকিব ২১ রানে আউট হওয়ার পর ঢাকার সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়েন। ১১৪ রানে সাকিব আউট হওয়ার পর ৫ রান যোগ করতেই সাজঘরের পথ ধরেন আদিল রশিদ (৩)। শেষ দিকে ক্যামেরন ডেলপোর্টের অপরাজিত ২০ ও আবু হায়দার রনির গুরুত্বপূর্ণ ৭ রানে ১৩৬ রানের পুঁজি পায় ডিপেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়ানোর পাশাপাশি সিলেটের জয়ের ভিত গড়ে দেন বোলাররা। নাসির হোসেন, আবুল হাসান ও লিয়াম প্লাঙ্কেট ২টি করে উইকেট নেন।