
কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল কাবি
কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল কাবি সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি কয়েক দিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে।
ব্রিটিশ দৈনিক ফিনার্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এতে বিশ্ব অর্থনীতি ধসে পড়তে পারে।’
আল কাবি বলেন, যুদ্ধ যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, তবে বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জ্বালানির দাম বাড়বে, বিভিন্ন পণ্যের ঘাটতি দেখা দেবে এবং সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে বহু কারখানা উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হবে।
ইরানের হামলার পর ইতোমধ্যে সৌদি আরব ও কাতার তাদের কয়েকটি বড় তেল ও গ্যাস স্থাপনায় উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইরানের দুটি ড্রোন শিল্পনগরী রাস লাফান এবং মাসাইদের জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানে। পরে কাতার দাবি করে, তারা ইরান থেকে আসা দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
ড্রোন হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি এলএনজি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।
আল-কাবি বলেন, “যেসব রপ্তানিকারক এখনো ‘ফোর্স মাজ্যর’ ঘোষণা করেনি, তারা খুব শিগগিরই তা করতে বাধ্য হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের সব জ্বালানি রপ্তানিকারককেই এই ঘোষণা দিতে হবে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, তা না করলে আইনি দায়ভার তাদেরই বহন করতে হবে।
এদিকে ইউরোপে শুক্রবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের এর দাম ২.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ।
আল-কাবি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করে, তাহলে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে গ্যাসের দাম ছিল অনেক কম, সেখানে তা বেড়ে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে ৪০ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা আগের তুলনায় প্রায় চার গুণ।
কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, জ্বালানির পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চল ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি এবং তাদের বৈশ্বিক বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর।



































