
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে উচ্চ উপস্থিতির মধ্য দিয়ে। প্রথম দফার প্রায় এক সপ্তাহ পর বুধবার অনুষ্ঠিত এই ধাপে ভোটদানের হার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগেই ভোট পড়ে ৮৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, যা প্রথম দফার একই সময়ের ৮৯ দশমিক ৯৩ শতাংশকেও ছাড়িয়ে যায়। ফলে এবার ভোটার উপস্থিতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট শেষ হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন বড় প্রশ্ন—ভারতীয় জনতা পার্টি কি শেষ পর্যন্ত মমতা ব্যানার্জি-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস-এর শক্ত ঘাঁটি ভাঙতে পারবে?
ভোট শেষে প্রকাশিত একাধিক বুথফেরত জরিপে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ছয়টি জরিপ সংস্থার মধ্যে চারটি ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রথমবারের মতো বিজেপি রাজ্যে সরকার গঠনের সুযোগ পেতে পারে। অন্যদিকে, দুটি জরিপে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
‘জনমত পোল’-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন পেতে পারে, যেখানে বিজেপি পেতে পারে ৮০ থেকে ৯০টি আসন। একইভাবে ‘পিপলস পালস’ তৃণমূলকে ১৭৭-১৭৮ এবং বিজেপিকে ৮৫-১১০ আসন দিয়েছে।
তবে ‘প্রজা পোল’ উল্টো চিত্র তুলে ধরে জানিয়েছে, বিজেপি ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসন পেতে পারে, আর তৃণমূল নামতে পারে ৮৫ থেকে ১১০ আসনে। এছাড়া ‘পি-মার্ক’, ‘ম্যাট্রিজ’, ‘পোল ডায়েরি’ ও ‘চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস’-এর জরিপেও বিজেপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
চাণক্য বিজেপিকে দিয়েছে ১৫০-১৬০, তৃণমূলকে ১৩০-১৪০; ম্যাট্রিজ বিজেপিকে দিয়েছে ১৪৬-১৬১, তৃণমূলকে ১২৫-১৪০; পোল ডায়েরি বিজেপিকে দিয়েছে ১৪৭-১৭৯। পি মার্ক সংস্থাও অনেক দিন ধরে ভোট সমীক্ষা চালিয়ে আসছে। তারা বিজেপিকে ১৫০-১৭৬ আসন দিয়েছে, তৃণমূলকে ১১৮-১৩৮।
২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসন। অধিকাংশ জরিপে সেই সংখ্যার কাছাকাছি বা তার বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে বিজেপির জন্য।
তবে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বুথফেরত জরিপ সবসময় সঠিক ফলাফল দেয় না। ফলে এখন চূড়ান্ত ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল। আগামী ৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে।
সূত্র: এনডিটিভি







































