বুধবার । এপ্রিল ২৯, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

মার্কিন পাসপোর্টে ট্রাম্পের ছবি! নতুন উদ্যোগে চমক ও বিতর্ক


US Passport trump

বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে পাসপোর্টে ক্ষমতাসীন নেতার ছবি ব্যবহারের নজির খুবই বিরল

যুক্তরাষ্ট্রে শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমী পাসপোর্ট, যেখানে যুক্ত হতে পারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি। মঙ্গলবার মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন, যা ইতোমধ্যেই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের এই বিশেষ পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে। প্রকাশিত নমুনা অনুযায়ী, একটি নকশায় ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাইয়ের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের পটভূমিতে ট্রাম্পের একটি গম্ভীর প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছে, যার নিচে সোনালি রঙে তার স্বাক্ষর রয়েছে। পাশাপাশি আরেকটি সংস্করণে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার স্থপতিদের ঐতিহাসিক একটি চিত্র রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, এই বিশেষ পাসপোর্ট শুধুমাত্র ওয়াশিংটনে সীমিত সময়ের জন্য পাওয়া যাবে এবং সরাসরি আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ফি ছাড়াই এটি সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে আবেদনকারীরা ট্রাম্পের ছবিযুক্ত সংস্করণটি নিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ নাগরিক স্থানীয় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন, যেখানে এই বিশেষ সংস্করণটি পাওয়া যাবে না।

বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে পাসপোর্টে ক্ষমতাসীন নেতার ছবি ব্যবহারের নজির খুবই বিরল। সাধারণত এসব নথিতে ঐতিহাসিক ঘটনা, সংস্কৃতি বা প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি ব্যবহার করা হয়। বর্তমান মার্কিন পাসপোর্টেও চাঁদে অবতরণসহ নানা ঐতিহাসিক ঘটনা এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি রয়েছে।

এদিকে, বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতারা এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, করদাতাদের অর্থ ব্যয় করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক এমন উদ্যোগ নেওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোতে মনোযোগ দেওয়া বেশি জরুরি। বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় নিজের নাম ও উপস্থিতি জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ভবনে তার ব্যানার টানানো হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার নাম যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি ডলার নোটে তার স্বাক্ষর যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে সেটিও একটি নজিরবিহীন ঘটনা হবে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে এখনো প্রায় অর্ধেক নাগরিকের বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে, যা অনেক পশ্চিমা দেশের তুলনায় কম। ফলে এই বিশেষ পাসপোর্ট কতটা জনপ্রিয় হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, বিশেষ করে যেসব অঙ্গরাজ্যে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম।