বুধবার । মার্চ ১১, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১১ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

৪০ বছর আগেই ইরানের যে দ্বীপ দখলের কথা ভেবেছিলেন ট্রাম্প


kharg island

ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহু বছর আগে থেকেই ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের চিন্তা পোষণ করছিলেন বলে একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে। প্রায় ৪০ বছর আগে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকার নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যখন সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে দ্বীপটি দখল নিয়ে আলোচনা হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

১৯৮৮ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিন, ইরানের প্রতি তিনি কঠোর অবস্থান নিতেন। তার ভাষায়, ‌‌‘ইরান আমাদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে পরাজিত করছে এবং আমাদের বোকা হিসেবে দেখাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কোনো সৈন্য বা জাহাজের দিকে একটি গুলিও ছোড়া হলে আমি খারগ দ্বীপে বড় ধরনের আঘাত হানতাম। সেখানে গিয়ে আমি দ্বীপটি দখল করে নিতাম।’

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা খারগ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মাধ্যমে রপ্তানি হয়, ফলে এটি দেশটির জ্বালানি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্পের ১৯৮৮ সালের মন্তব্যের সময় পটভূমিতে ছিল ভয়াবহ ইরান-ইরাক যুদ্ধ, যেখানে ইরান ও সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বাধীন ইরাকের মধ্যে দীর্ঘ সংঘাতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিত এবং ইরানের তেল স্থাপনা ও মাইন লক্ষ্য করে হামলা চালাত।

ট্রাম্প ওই সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ‘ইরান ইরাককেও হারাতে পারছে না, অথচ তারা যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখছে। তাদের মোকাবিলা করা বিশ্বে জন্য ভালো হবে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ইতিহাস অনেক বেশি জটিল। ১৯৭৯ সালে ইরানে মার্কিন-সমর্থিত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর পতনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামি প্রজাতন্ত্র। সেই বছরের নভেম্বরে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস থেকে ৬৬ জন মার্কিন নাগরিককে জিম্মি করা হয়, যাদের মধ্যে ৫২ জনকে ৪০০ দিনেরও বেশি সময় আটকে রাখা হয়েছিল।

অন্যদিকে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গোপনে ইরানকে অস্ত্রও বিক্রি করেছিল।

বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর সৃষ্ট তেল সংকটের পর সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ যায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যা বর্তমানে কার্যত সীমিতভাবে ব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়েছে।

এদিকে সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ পরও শনিবার পর্যন্ত খারগ দ্বীপে তেল লোডিং কার্যক্রম চলছিল। তবে এখনো দ্বীপটির কার্যক্রম পুরোপুরি চালু আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।