
চার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট- জর্জ বুশ সিনিয়র, বারাক ওবামা, জর্জ বুশ জুনিয়র ও বিল ক্লিনটন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত অব্যাহত রাখতে তার কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। কারণ অতীতের অনেক প্রেসিডেন্টও এমন অনুমতি নেননি এবং যুদ্ধক্ষমতা আইনকে গুরুত্ব দেননি।
শুক্রবার যুদ্ধ শুরুর ৬০ দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা পার হওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, আগের প্রেসিডেন্টরা কংগ্রেসের এই ক্ষমতাকে ‘সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক’ মনে করতেন। তার ভাষায়, ‘অনেক প্রেসিডেন্টই এই সময়সীমা অতিক্রম করেছেন… কেউ কখনও অনুমতি চায়নি।’
তবে বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ অনুযায়ী, কংগ্রেসকে অবহিত করার ৬০ দিনের মধ্যে কোনো সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হয়—যদি না আইনপ্রণেতারা তা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। এই আইনটি পাস হয় রিচার্ড নিক্সনের ভিয়েতনাম যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে।
বিগত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার বিষয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করার পর শুক্রবার সেই ৬০ দিনের সময়সীমা পূর্ণ হয়। তবে ট্রাম্প এও দাবি করছেন, চলমান যুদ্ধবিরতিরর দিনগুলো ৬০ দিনের হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হয়নি—যা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ইতিহাস বলছে, কিছু প্রেসিডেন্ট এই আইন মেনে চলার চেষ্টা করেছেন। ১৯৮৩ সালে রোনাল্ড রিগ্যান লেবাননে সেনা পাঠানোর আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নেন। জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের ক্ষেত্রেও অনুমোদন চেয়েছিলেন। তার ছেলে জর্জ ডব্লিউ বুশ জুনিয়র আফগানিস্তান (২০০১) ও ইরাক (২০০৩) যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের সমর্থন পান।
তবে এমন উদাহরণও রয়েছে, যেখানে এই আইন পুরোপুরি মানা হয়নি। প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সময় ১৯৯৯ সালে কসোভোতে ৭৮ দিনের বিমান হামলা কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই চালানো হয়। বারাক ওবামা ২০১১ সালে লিবিয়ায় সামরিক অভিযানকে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ নয় বলে ব্যাখ্যা দিয়ে ৬০ দিনের সীমা অতিক্রম করেন।
মিনেসোটার হ্যামলাইন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডেভিড শুল্টজ বলেন, ‘অন্য প্রেসিডেন্টরা আইন মানেননি বলেই ট্রাম্পের পদক্ষেপ সঠিক হয়ে যায় না।’ তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই আইনপ্রণেতারা নির্বাহী বিভাগের একতরফা যুদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত অতীতের যুদ্ধগুলোর তুলনায় অনেক ছোট। তিনি ভিয়েতনাম, ইরাক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও কোরিয়া যুদ্ধের দীর্ঘ সময়ের উদাহরণ দেন।
তবে এখনও হরমুজ প্রণালি ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অচলাবস্থা চলছে। ফলে এই সংঘাত কীভাবে শেষ হবে, তা স্পষ্ট নয়।
এ প্রসঙ্গে ২০১৪ সালে আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে বারাক ওবামার মন্তব্য আবারও আলোচনায় এসেছে: ‘যুদ্ধ শুরু করার চেয়ে শেষ করা অনেক বেশি কঠিন।’
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল











































