শনিবার । এপ্রিল ২৫, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যায় সন্দেহভাজন কে এই হিশাম আবুগারবিয়েহ


Hisam

তিনি একটি বাড়ির ভেতরে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন পরে বিশেষ বাহিনীর কাছে তিনি আত্মসমর্পণ করেন

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহ সম্তপর্দকেন্তে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। একই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরেক বাংলাদেশি গবেষক নাহিদা বৃষ্টি। যদিও তার ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন নাহিদা বৃষ্টিও নিহত হয়েছেন কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এখনো এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি।

২৬ বছর বয়সী আবুগারবিয়েহ একজন মার্কিন নাগরিক এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সেখানে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। নিহত জামিল লিমনের রুমমেট হিসেবে একই বাসায় থাকার কারণে শুরু থেকেই তিনি তদন্তকারীদের নজরে ছিলেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আবুগারবিয়েহকে অন্তত দুইবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। প্রথমদিকে তিনি সহযোগিতা করলেও পরে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং তিনি জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে লিমনের হত্যার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যা তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Hisam 2

অভিযুক্ত হাশিম বামে। ডানে ওপরে জামিল লিমন ও নিচে নাহিদা বৃষ্টি

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে আবুগারবিয়েহ একাধিকবার মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, যদিও পরে সেসব অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়। একই বছরে তার বিরুদ্ধে খালি বাসায় চুরির অভিযোগও আনা হয়। এসব অপরাধ লঘু হিসেবে নথিভুক্ত হলেও তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগও রয়েছে।

তার পরিবারের এক সদস্য অভিযোগ করেছিলেন যে পারিবারিক বিরোধের সময় তিনি তার ভাই ও মায়ের ওপর হামলা করেন। এক পর্যায়ে আদালত তার বিরুদ্ধে নিজেদের বাড়িতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছিল, যদিও সেটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আবুগারবিয়েহকে প্রথমে একটি গৃহহিংসার অভিযোগের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তিনি একটি বাড়ির ভেতরে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে বিশেষ বাহিনী ও আলোচকদের সহায়তায় তিনি আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে গৃহহিংসা, মারধর, অবৈধভাবে আটক রাখা, প্রমাণ নষ্ট করা, মৃত্যুর খবর গোপন রাখা এবং মৃতদেহ অবৈধভাবে সরানোর মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে, তবে এখনো তাকে হত্যার অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি।

জামিল লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। তাকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল সকালে ট্যাম্পার বাসায় দেখা যায়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে নিখোঁজ হন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি, যাকে সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল। তাকে খুঁজে পেতে এখনো অভিযান চালানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বাংলা টেলিগ্রাফ পর্যবেক্ষণ