শুক্রবার । এপ্রিল ২৪, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

মার্কিন নৌ অবরোধ: কতদিন টিকে থাকতে পারবে ইরান?


Hormuz US blocked

বিশ্লেষকরা এও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এই অবরোধ দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে না

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরান ‘আর্থিকভাবে ধসে পড়ছে’ এবং প্রতিদিন বিপুল অর্থ ক্ষতি করছে দেশটি।

মঙ্গলবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার হারাচ্ছে এবং তাদের সামরিক ও পুলিশ সদস্যদের বেতন দিতেও সমস্যায় পড়েছে।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ শুরু হয়। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে এবং ইরানগামী বা ইরান থেকে আসা জাহাজগুলোকে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। ইরান যদিও যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে অবৈধ এবং সমুদ্র দস্যুতা হিসেবে অভিহিত করেছে।

পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আবার প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং কয়েকটি বিদেশি জাহাজ আটক করে। দেশটির নেতারা সতর্ক করে বলেন, ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ রেখে অন্যদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ইরান সমুদ্রপথে তেল, গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যালসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে থাকে। ফলে নৌ অবরোধে এই বাণিজ্য সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইরান বরং বেশি আয় করেছে। মার্চ মাসে দেশটি দৈনিক প্রায় ১.৮৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। গড়ে প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলার ধরলে, গত এক মাসে প্রায় ৪.৯৭ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে—যা যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আয় কমিয়ে আনা যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের প্রধান লক্ষ্য।

কতদিন টিকে থাকতে পারবে ইরান?
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কিছু সময় পর্যন্ত এই চাপ সহ্য করতে পারবে। তাদের ধারণা, সমুদ্রে ভাসমান ট্যাংকারে থাকা প্রায় ১৬০–১৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রি করে ইরান অন্তত আগস্ট পর্যন্ত রাজস্ব আয় চালিয়ে যেতে পারে। তেল ছাড়াও ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে টোল আদায় শুরু করেছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রতি জাহাজ থেকে ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া ইরানের কাছে স্থলভাগে প্রায় ২০ দিনের উৎপাদন সমপরিমাণ তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজনে তারা উৎপাদন ধীরে ধীরে কমাতে পারে।

বিশ্লেষকরা এও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এই অবরোধ দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে না। দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ, কংগ্রেসের অনুমোদন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া—বিশেষ করে চীনের অবস্থান—এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

চীন ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে বাধা দেওয়ার বিরোধিতা করেছে।

ইরানের নেতারা দাবি করছেন, দেশটি রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ এবং যেকোনো চাপ মোকাবিলায় প্রস্তুত। তারা বলছেন, দেশের অভ্যন্তরে কোনো বিভাজন নেই।

বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল