একজন অন্ধ পর্যটকের বিশ্বভ্রমণ

gilesটনি গিলস একজন তরুণ পর্যটক। সম্পূর্ণ অন্ধ ও দুই কানেই ৮০ শতাংশ বধির টনি স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করেছেন পৃথিবীর সাতটি মহাদেশ। পৃথিবীর সব দেশে ভ্রমণের অদম্য ইচ্ছা তার।

অন্ধ ও বধির হয়ে ভ্রমণের নানান অভিজ্ঞতা নিয়ে ইতোমধ্যে লিখেছেন অনেক বই। তাকে নিয়ে বিবিসি প্রকাশ করেছে একটি ভিডিওচিত্র। সে সূত্রে জানা গেছে টনি নামের এই পর্যটকের ভ্রমণ ও জীবনগল্প।

ইংল্যান্ডের অধিবাসী টনির শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে ভ্রমণে আটকাতে পারেনি। সাতটা মহাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ রাজ্য, সুমেরুবৃত্ত অতিক্রম ও দক্ষিণ আমেরিকার সকল দেশ ও কানাডা প্রদেশের ১০টি অঞ্চল ভ্রমণ করেছেন।

tony-traveller
জর্ডান ভ্রমণে টনি। সূত্র: টনি দি ট্রাভেলার ওয়েবসাইট।

বিবিসির ভিডিওচিত্রে টনি বলেন, আমি একাই ভ্রমণ করি। কারণ একা ভ্রমণ করাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এতে আমি অনেক মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ পাই। আমি যদি কোনো সক্ষম ব্যক্তির সঙ্গে ভ্রমণ করতাম তাহলে সব কাজ সে একাই করতো। কিন্তু তাতে আমি সব অভিজ্ঞতা পেতাম না।

টনি প্রথম একা একা ভ্রমণ করেন নিউ অরল্যান্সে। সেটাই ছিল তার প্রথম বিদেশ ভ্রমণ। সেসময়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে টনি বলেন, আমি জানতাম না কোথায় যাচ্ছি। আমার শরীর জমে গিয়েছিল। পরে আমি গভীর নিশ্বাস নিই।

তিনি বলেন, আমি নিজেকে প্রেরণা দিই। বলি, টনি, এটাই তুমি চেয়েছিলে। যদি এখন না পারো তাহলে বাড়ি যাও। এরপর টনিকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

tony-crocodile
পশ্চিম আফ্রিকা ভ্রমণে কুমিরের লেজ ধরে আছেন টনি। ছবি: টনি দি ট্রাভেলার ওয়েবসাইট

কিভাবে একজন অন্ধ ও বধির মানুষ হিসেবে ভ্রমণ করেন টনি? তার উত্তরে তিনি বলেন, আমি প্রায়সময়ই হারিয়ে যাই। যে স্থানে যেতে চাই সেখানে পৌঁছেছি নাকি তা জানা যায় না। ১০জন পথচারী হেঁটে গেলে একজন আমাকে জিজ্ঞেস করেন সাহায্য লাগবে কিনা। এভাবেই আমি এগিয়ে যাই।

এভাবে মানুষের সাহায্য নিয়ে টনি তার গন্তব্যে পৌঁছেন। নিজের সেলফি তুলেন, ছুঁয়ে দেখেন কাঙ্খিত স্থাপত্যগুলো। চারপাশের মানুষের ঘ্রাণ নেন। এতেই সুখী অনুভব করেন টনি গিলস।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

সৌজন্যে: অর্থসূচক