cosmetics-ad

মধ্যরাতে মদ্যপ নারী এএসপির কান্ড!

merina

মধ্যরাতে ওসির কক্ষে মদ্যপ অবস্থায় ঢুকে সাতক্ষীরার এএসপি সার্কেল মেরিনা আকতারের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অশোভন আচরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে সাতক্ষীরা সদর থানায় এই অশোভন ও অশালীন এবং বেআইনি এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব। ক্ষোভ প্রকাশ করে সাতদিনের আলটিমেটাম দিয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। পুলিশের একজন নারী অফিসার যদি মদ খেয়ে মাতলামি করতে করতে থানায় ঢোকেন তাতে পুলিশ বাহিনীর মর্যাদাই নষ্ট হয় বলে মন্তব্য করেছেন তারা। এ ধরনের কর্মকর্তা পুলিশের ভাবমূর্তিও বিনষ্ট করছেন বলে দাবি তাদের।

সাংবাদিকরা জানান, সাতক্ষীরা শহরে একজন পুলিশ কনস্টেবলের স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা সম্পর্কে জানবার জন্য রাতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী এবং সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ওসির সঙ্গে সাক্ষাত করতে থানায় যান। এ সময় ওসি মারুফ আহমেদের অনুপস্থিতিতে তারা সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। কিছুক্ষণ পর ওসি রুমে আসার পর কথাবার্তার এক পর্যায়ে সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের এএসপি মেরিনা আক্তার মাতাল অবস্থায় তার কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় বেসামাল অবস্থায় তিনি সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের জন্য কাজ করতে পারছি না। ঠিকমতো তদন্তও করতে পারছি না।’ তিনি ওসির উদ্দেশে বলেন, ‘এই এদের (সাংবাদিকদের) সরিয়ে রুম খালি করো।’

এ সময় তার মুখ থেকে মদের গন্ধ বেরিয়ে আসছিল। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তারা বেসামাল অবস্থা দেখে লজ্জিত হয়ে পড়েন। তারা কথা না বাড়িয়ে ওসির কক্ষ ত্যাগ করেন।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদের সভাপতিত্বে এক জরুরি সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাংবাদিকরা ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, মেরিনা একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এ ধরনের বেআইনি কাজ করতে পারেন না। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে সভায় মন্তব্য করেন সাংবাদিকরা।

সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আবদুল বারী, সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনি, দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নূর ইসলাম, প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যনার্জি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, সাবেক সাধারন সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, যুগ্মসম্পাদক গোলাম সরোয়ার, অর্থ সম্পাদক, মোশাররফ হোসেন, দফতর সম্পাদক আমিনা বিলকিস ময়না, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য আমিনুর রশীদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির আবুল কাসেম, ডিবিসির এম জিল্লুর রহমান, মোহনা টিভির আবদুল জলিল প্রমুখ সাংবাদিক।