আজীবন ক্ষমতার পথে জিনপিং

china
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আজীবন ক্ষমতার স্বাদ পেতে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে দেশটির জাতীয় পরিষদ ও শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের বার্ষিক সভা সোমবার থেকে বেইজিংয়ে শুরম্ন হয়েছে। চলতি বছর দেশটির জাতীয় পরিষদ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ক্ষমতা অনেকখানি বাড়াবে- এ ধারণার মধ্যেই এই দুই অধিবেশনকে রাজনৈতিক অঙ্গনে অতি গুরম্নত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চীনা প্রেসিডেন্টদের দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে না পারার বিধানটি তুলে দিতে জাতীয় পরিষদে সংবিধান সংশোধনের প্রস্ত্মাব অনুমোদিত হবে। এর মাধ্যমে শি জিনপিং আজীবন ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে; যিনি ‘শি জিনপিংয়ের চিন্ত্মা’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া তার নতুন মতাদর্শ অনুযায়ী চীনকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। চীনের অভ্যন্ত্মরেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হলেও এই পদক্ষেপ শি জিনপিংকে দেশটির নেতা মাও জে দং-এর মতো ক্ষমতাবান করে তুলবে। এর মাধ্যমে বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইচ্ছামতো ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।

চীনের জাতীয় পরিষদ, ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসই (এনপিসি) দেশটির পার্লামেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছে। এটিই রাষ্ট্রটির সবচেয়ে শক্তিশালী অঙ্গ। চলতি বছর চীনের বিভিন্ন প্রদেশ, স্বায়ত্তশাসিত এলাকা, কেন্দ্রশাসিত মিউনিসিপিাল, হংকং ও ম্যাকাউয়ের মতো বিশেষ এলাকা ও সেনাবাহিনীর দুই হাজার ৯৮০ জন প্রতিনিধি এনপিসির বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে ৭৪২ জনই নারী, যা মোট প্রতিনিধির ২৫ শতাংশ। এ সংখ্যা গত বছরের বার্ষিক সভার তুলনায় অনেক বেশি। এবারের এনপিসিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪৩৮ জন ডেপুটি বা প্রতিনিধি অংশ নেবেন।

এনপিসির আগেই শুরম্ন হয়েছে চীনা পিপলস পলিটিকাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের (সিপিপিসিসি) সভা। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের মতো ভূমিকা পালন করা সিপিপিসিসি সিদ্ধান্ত্ম গ্রহণের ক্ষমতা নেই। সিপিপিসিসির পরামর্শে সিদ্ধান্ত্ম নেয় জাতীয় পরিষদ। বিনোদন জগত, ক্রীড়া, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও অন্যান্য দলের প্রতিনিধিসহ শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদ সিপিপিসিসির বর্তমান সদস্য দুই হাজার ১৫৮ জন। শনিবার এই পরিষদের সভা শুরম্ন হয়। এনপিসির সভা শুরম্ন হয়েছে সোমবার। ঐতিহ্য অনুযায়ী, উভয় পর্ষদের এই ‘দুই অধিবেশন’ এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত্ম স্থায়ী হয়।
গত বছরের অক্টোবরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে গণচীনের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা মাও জে দং-এর মতো শি জিনপিংকে অভূতপূর্ব ক্ষমতা দেয়ার পর এবারের এনপিসি ও সিপিপিসিসির বৈঠককে বেশ গুরম্নত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। চলতি বছর চীনের ‘সংস্কার ও খোলা নীতির’ ৪০ বছর পূর্তি হওয়ায় পর্ষদগুলোর বৈঠকে অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা।

সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি ও পরিবেশ সুরক্ষা নিয় প্রেসিডেন্ট জিনপিং বেশ সোচ্চার। এ কারণে এনপিসি এবার শক্তিশালী একটি দুর্নীতিদমন কমিশন আইনেরও অনুমোদন দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাড়ে ১৪ লাখ কোটি টাকার সামরিক বাজেট. এদিকে, আগামী বছরের জন্য এক লাখ ১১ হাজার কোটি ইউয়ান; অর্থাৎ ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের সামরিক বাজেট ঘোষণা করেছে চীন। টাকার অঙ্কে যা ১৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৬ কোটির বেশি। গত বছরের চেয়ে এবার ৮ শতাংশ বাজেট বাড়ানো হয়েছে। দেশটির চলমান সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং এই বাজেট ঘোষণা করেন। এছাড়া দেশটির সামগ্রিক বাজেটেও সাড়ে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চীন সরকার বলছে, তাদের এবারের বাজেট তিনটি প্রধান লক্ষ্য মাথায় রেখে ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো হলো, অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবেলা করা, ক্রমবর্ধমান দূষণ কমানো ও দারিদ্র্যের বিরম্নদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা। পার্লামেন্টের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী লি নতুন সামরিক বাজেট ঘোষণা দেন। জাতীয় নিরাপত্তা পরিবেশের গভীর পরিবর্তন মোকাবেলায় সেনাবাহিনীকে ‘পাথরের মতো শক্তিশালী’ করতেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে উলেস্নখ করেন লি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেনাবাহিনীর মালিক চীন তার সেনাদের আধুনিকায়ন অব্যাহত রেখেছে। দেশটি দক্ষিণ চীন সাগর ও হিমালয়ের সীমান্ত্ম এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজও করে যাচ্ছে।

সংবাদসূত্র : বিবিসি