sentbe-top

আকাশে যুদ্ধবিমানের চক্করে আতঙ্কগ্রস্ত ইসরায়েলিরা

israelসিরিয়ার তাইফুরে টি-ফোর বিমানঘাঁটিতে গত রোববার অতর্কিতে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। এর প্রতিক্রিয়ায় গত মঙ্গলবার ইরান হুমকি দিয়েছিল, ‘অবৈধ যিওনবাদী রাষ্ট্রটিকে তাদের অপরাধের শাস্তি পেতে হবে’। সিরিয়া নিয়ে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে আকাশে যুদ্ধবিমানের চক্কর দেখে আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা ইসরায়েলে।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ জানিয়েছে, খুব নিচু দিয়ে উড়ে যাবার সময় ক্ষেপণাস্ত্র ফাঁকি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ফ্লেয়ার ছুঁড়ছিল বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো। কিন্তু ফ্লেয়ার ছোঁড়া দেখে ইসরায়েলিদের মনে হয়েছিল তারা বুঝি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ছে। এর ফলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। অনেকেই অবিরাম ফোন দেওয়া শুরু করেন পুলিশের জরুরি সেবা বিভাগে। পরে জানা যায়, ‘স্বাধীনতা দিবস’ উদযাপনে নির্ধারিত অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি হিসেবে মহড়া দিচ্ছিল ইসরায়েলের যুদ্ধবিমানগুলো।

বিমানবাহিনী সাধারণত এরকম মহড়ার আগে জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে বিজ্ঞপ্তি দেয়। কিন্তু বৃহস্পতিবারের ওই মহড়ার বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানায়নি তারা। বিনা ঘোষণায় এমন মহড়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলআবিবের সমালোচনা করছেন অনেক ইসরায়েলি।

অবশ্য আতঙ্ক ছড়ানোর কারণও মজুদ ছিল। গত মঙ্গলবার ইরানের হুমকির পর থেকে ইসরায়েলের প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীকে সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা গিয়েছিল।

সিরিয়ার মাটিতে পশ্চিমা মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে দেশটির সরকারি বাহিনীকে রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানও সহায়তা করছে। আর মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ইসলামী বিপ্লবের দেশটিকে অনেক বড় বাধা হিসেবে দেখে ইসরায়েল।

এদিকে, ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের সাবেক কমান্ডার য়োয়াভ গালান্ত বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর উচিত বাশার আল আসাদকে হত্যা করে সিরিয়ায় একজন সৌদিপন্থি প্রেসিডেন্ট বসানো।

সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাশার আল-আসাদ ও তার বাবা (হাফিজ আল-আসাদ) কখনোই ইসরায়েলকে মেনে নেয়নি। বরং তার সহযোগিতায় সিরিয়ার ওপর দিয়ে লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছে ইসরায়েলে হামলার অস্ত্র সরবারহ করছে ইরান।

অবশ্য সিরিয়ার মাটিতে রাশিয়া ও ইরানের নেতৃত্বাধীন বাহিনীগুলোর সাথে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রস্তুতিও পশ্চিমাদের থাকতে হবে বলে মত দেন গালান্ত।

sentbe-top