sentbe-top

দুই কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি একসাথে

দুই কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি হাতে ধরেই হাটছেন

দুই কোরিয়ার মধ্যে শুক্রবার স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তির পর সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের স্ত্রী রি সোল জু। তাকে অভ্যর্থনা জানান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইনের স্ত্রী কিম জাং সুক। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ইয়ানহাপ নিউজ লিখেছে, সীমান্তবর্তী পানমুনজমে হওয়া সফল আলোচনা অনুষ্ঠানের পর নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন। নৈশভোজে যোগ দিতেই উনের স্ত্রী রি সোল জুর আগমন। রিকে অভ্যর্থনা জানান কিম জাং সুক। সেখানেই প্রথমবারের মতো দুই দেশের দুই ফার্স্ট লেডির একে অপরের সঙ্গে দেখা হয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করতেই উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি রিকে সাম্প্রতিককালে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে যেতে দিচ্ছেন।

শুক্রবার দুই কোরিয়ার নেতারা কোরীয় উপত্যকাকে পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত করা ও সেখানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একমত হয়েছেন। তাদের স্বাক্ষরিত যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র বর্জনের পাশাপাশি অন্যান্য অস্ত্রের মজুদও সীমিত করবেন। দুই দেশের ভাষ্য, ‘সামরিক উত্তেজনা কমে আসলে এবং দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ক দৃঢ় ভিত্তি পেলে দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়া ধাপে ধাপে তাদের মজুদ অস্ত্রের পরিমাণ কমিয়ে আনবে।’ দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও আদান-প্রদানের সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। কোরিয়া বিভক্ত হয়ে যাওয়ার কারণে যেসব কোরীয় পরিবার বিচ্ছিন হয়ে গিয়েছিল, তাদের আবার মিলিত করতে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়া যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শুক্রবারের নৈশভোজে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের স্ত্রী রি সোল জু পশ্চিমা ধাঁচের পোশাক পরে পানমুনজমে গিয়েছিলেন। তাকে স্বাগত জানাতে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি কিম জাং সুক পরেছিলেন আকাশি রঙের পোশাক। সোল জুকে বহনকারী গাড়িটি পানমুনজমের দক্ষিণ কোরীয় অংশে প্রবেশ করে সন্ধ্যা ছয়টার পরে। দুই কোরিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়েছিল যে পিস হাউজ ভবনে, সেখানে পৌঁছালে সুক তাকে নিয়ে যান কিম জং উন ও মুন জে ইনের কাছে। রিকে দেখে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন তাকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে স্বাগত জানান। সেখানে তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ কথাবার্তা হয়। মুন রিকে জানান, ‘আমরা একদিনের ভেতর খুব শক্তিশালী বন্ধুত্বের সূচনা করেছি।’ জবাবে রি সোল জু বলেছেন, ‘সকালে আলোচনার পর ফিরে গিয়ে গিয়ে যখন আমার স্বামী আপনার সঙ্গে আলোচনাটি আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার ও আলোচনাটির সফল হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তখন আমি খুব খুশি হয়েছিলাম।’

ইয়ানহাপ নিউজ জানিয়েছে, উত্তর কোরীয় ফার্স্ট লেডি রি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ তৎপর। গত মাসে শি জিন পিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে কিম জং উন চীন সফরে গেলে সেখানে উনের পাশে দেখা গিয়েছিল রিকে। মার্চের ৫ তারিখে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধি দলের সম্মানে আয়োজিত উত্তর কোরিয়ার নৈশভোজেও তিনি কিম জং উনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এপ্রিলের ১ তারিখে পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ কোরীয় শিল্পীদের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও তাকে উনের পাশে দেখা গেছে।

এপ্রিলের ১৪ তারিখে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রথমবারের মতো রি সোল জুকে ‘মাননীয় ফার্স্ট লেডি’ সম্বোধন করেছিল। সেদিন চীনের জাতীয় ব্যালে নৃত্যশিল্পীদের দল পিয়ং ইয়ংয়ে নাচ পরিবেশন করেছিল। ওই অনুষ্ঠানেই রি প্রথমবারের মতো স্বামীকে ছাড়া একা উপস্থিত হয়েছিলেন। উত্তর কোরিয়ায় রিকে সাধারণত ‘কমরেড’ সম্বোধন করা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে উত্তর করিয়াকে অন্যান্য দেশের মতো একটি স্বাভাবিক পরিবেশ থাকা দেশ হিসেবে তুলে ধরতে কিম জং উন রিকে সামনে যেতে দিয়েছেন।

sentbe-top