cosmetics-ad

শিশুদের বন্ধু শি জিনপিং

she-jinping

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিশ্বের অন্যতম প্রধান নেতা। বছরের সব ঠাসা শিডিউল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তিনি। বাণিজ্য বিস্তার, সামরিক শক্তি বৃদ্ধি থেকে বিশ্বের সব দেশকে একই যোগাযোগ বলয়ে নিয়ে আসার এলাহী কাজে তিনি বিশ্বের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ছুটে বেড়ান। এর মাঝে একটুখানি ফুরসত মিললেই শিশুদের সঙ্গে মিশে যান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

খেলার মাঠে, ক্লাসরুমে, সব জায়গায় তিনি শিশুদের সঙ্গে এমন বন্ধুর মতো মিশে যান যে তিনি নিজেই এক বিরাট শিশু। তাই শিশুবান্ধব এ প্রেসিডেন্টকে বলা হয় ‘শি-দাদা’ বা সম্মানিত বন্ধু। শিশুদের নিয়ে তার নয়টি মজার তথ্য তুলে ধরা হল-

১. মেয়ের স্নেহময় বাবা চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মেয়েকে সঙ্গ দেওয়া একজন ভালো বাবা শি।

তার অফিসের বইয়ের তাকে তার মেয়ের সঙ্গে ছোটবেলার একটি ছবি আছে। এতে দেখা যায়, তিনি সাইকেলে করে মেয়েকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার মেয়ের সঙ্গে গভীর ভালোবাসার কথা স্মরণ করে স্ত্রী ফেং লি ইউয়ান বলেন, মেয়ের চেহারা তার মতো, এবং তার সঙ্গে সবচেয়ে খাতির। আমার সঙ্গে মেয়ে ভীষণ দুষ্টুমি করে। কিন্তু তার বাবার সঙ্গে সে একেবারেই শান্ত-ছোট বিড়ালের মতো!

২.লাজুক ‘শি-দাদা’

শিশুদের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের খুবই ভালো সম্পর্ক। ২০১৪ সালে তিনি ফুচৌ শহরের চুনমেন কমিউনিটিতে যান। সেখানে কয়েকটি শিশুর সঙ্গে আন্তরিক সময় কাটান। অনুষ্ঠান শেষে ৭ বছর বয়সী চৌ রুই নিং তার ডায়রিতে লিখে- ‘শি-দাদা’ খুবই লাজুক!’ তার এ কথা সারা চীনের নেট জগতে আলোড়ন তোলে এবং সবাই আনন্দ পায়। আসলে ‘শি-দাদা’ তেমন লাজুক না। তিনি শিশুদের খুবই আদর করেন, শিশুদের চোখে তিনি সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ।

৩. শিশুদেরকে লেখা শি জিনপিংয়ের চিঠি

২০১৬ সালের শিশু দিবসের আগে চ্যচিয়াং প্রদেশের থাইচৌ শহরের প্রাথমিক স্কুলের ১২টি শিশু শিক্ষার্থী শিকে একটি চিঠি লিখে। তারা সবাই ছিল তাছেন দ্বীপের অনাবাদি জমি চাষ করা কৃষকদের সন্তান। খুব দ্রুত চিঠির জবাব পেয়ে দারুণ খুশি হয় তারা। চিঠিতে তাদের উৎসাহ দিয়ে শি লিখেন- শিশুরা জ্ঞান, সততা ও অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন হবে। শিশুরা আনন্দের সঙ্গে বলে, এই দিকনির্দেশনা হচ্ছে শিশু দিবসের সবচেয়ে ভালো উপহার!

৪. ইয়ং পাইওনিয়ারদের প্রথম ব্যাচে অংশ নিতে না পারায় কান্না

শি জিনপিং শিশুদের গল্প শুনতে পছন্দ করেন। পাশাপাশি তিনি নিজের ছোটবেলার গল্পও শিশুদের বলেন। বেইজিংয়ের হাইতিয়েন জেলার এথনিক এলিমেন্টারি স্কুলে গিয়ে তিনি অতীতের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ছোটবেলায় স্কুলের ইয়ং পাইওনিয়ারদের প্রথম ব্যাচে অংশগ্রহণ করতে না পেরে অনেক কেঁদেছেন তিনি। অবশেষে যখন তিনি ইয়ং পাইওনিয়ার দলে অংশ নেন তখন তার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। যখন শিশুরা লিখে ‘দেশকে প্রতিদান দাও সর্বোচ্চ আনুগত্যসহ’; শির ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। শি বলেন, তার ৪-৫ বছর বয়সে, মা তার জন্য ইউয়ে ফেইয়ের (প্রাচীন চীনের এক দেশপ্রেমিক সেনাপতি) বই কিনে দেন। মা বলেন, ইউয়ে ফেইয়ের মা তার সন্তানের পিঠে ‘দেশকে প্রতিদান দাও সর্বোচ্চ আনুগত্যসহ’ এই কথাগুলো ট্যাটু এঁকে দিয়েছিলেন। তখন ছোট শি জানতে চান, ‘পিঠে ট্যাটু আঁকলে ব্যথা লাগে না?’ মা জবাব দেন, ‘অবশ্যই ব্যথা লাগে’, তার পরও ইউয়ে ফেই সবসময় এ কথা মনে রেখেছেন।

শি জিনপিং শিশুদের বলেন, ‘দেশকে প্রতিদান দাও সর্বোচ্চ আনুগত্যসহ’ এ কথা এখনও তার মনে আছে। এটিই এখন তার সারা জীবনের লক্ষ্য।

৫. দুর্গত এলাকার শিশুদের প্রতি মনোযোগ

২০১৩ সালের ২০ এপ্রিল চীনের সিচুয়ানপ্রদেশের লুশানে রিকটার স্কেলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। স্থানীয় অঞ্চলে পুনরুদ্ধার ও উদ্ধার অভিযানের সময় সেখানকার শিশুদের পরিস্থিতির প্রতি অনেক মনোযোগ দেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুর্গত এলাকার লোকদের সঙ্গে দেখা করার সময় তিনি বিশেষভাবে বাচ্চাদের খোঁজখবর নিতেন। তাদের তাঁবুতে দেড় বছর বয়সী লুও জুন ছেং শিকে চুমু দেয় ও তাকে দাদা বলে ডাকে। ‘শি-দাদা’ হাসিমুখে বাচ্চার মুখ স্পর্শ করেন এবং তাকেও চুমু দেন। এমন স্নেহময় মিষ্টি মুহূর্ত অনেকে মুগ্ধ করে।

৬. অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের হাজার মাইলের চিঠি

২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রাথমিক স্কুলের ১৬ শিশু শিক্ষার্থী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও তার স্ত্রী ফেং লি ইউয়ানকে চিঠি লিখে। তাতে স্থানীয় অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যময় পশুপাখি, উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের কথা বলা হয়েছে। চীনা ভাষায় এ চিঠি লিখে শি দম্পতির অস্ট্রেলিয়ার সফরকে স্বাগত জানানো হয়। এ চিঠি অবশেষে প্রেসিডেন্ট শির হাতে পৌঁছায়। পরে ওই ১৬ শিশু শিক্ষার্থী বিশেষ অতিথি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় শির সফরের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল।

শি হাসিমুখে বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের ভালোভাবে চীনা ভাষা শেখা ও চীনের সংস্কৃতি ও ইতিহাস বোঝার জন্য উৎসাহ দেন। সবাই মৈত্রী গাছের চারা রোপণ করেন। শি বলেন, ‘আমাদের বন্ধুত্বের বীজ একদিন বড় গাছ হবে’।

৭. ‘বড় বন্ধু’ ও সুপার ফুটবল ফ্যান

‘বড় বন্ধু’ শি জিন পিং ফুটবল ভালোবাসেন। চীনের ‘যুব ফুটবল’ উন্নয়নে গুরুত্ব দেন তিনি। শিশু থেকেই ফুটবলচর্চা শুরু করা উচিত বলে মনে করেন শি। ২০১৪ সালে জার্মানি সফরকালে তিনি বার্লিনে অলিম্পিয়া স্টেডিয়ামে চীনের শিশু ফুটবল খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা করেন। তখন চীনের শ্যানসি প্রদেশের চিতান জেলার ফুটবল খেলোয়াড়রা জার্মান প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে লড়াই করছিল। ‘বড় বন্ধু’ শি তাদের খেলা দেখেন ও ব্যাপক প্রশংসা করেন। বিশ্রামের সময় তিনি তরুণ/শিশু ফুটবলারদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন এবং তাদের প্রশিক্ষণ ও দৈনন্দিন অবস্থার খোঁজখবর নেন। চীনা ফুটবলাররা শির কাছে আন্তরিকভাবে প্রশিক্ষণের গল্প তুলে ধরে। শি অনেক খুশি হন। তারা বড় হয়ে ‘সুপার ফুটবল খেলোয়াড়’ হবে বলে আশা করেন প্রেসিডেন্ট শি।

৮. শির দারুণ ভক্ত পাকিস্তানি শিশুরা

পাকিস্তানের বিখ্যাত রুটস মিলিয়েনিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রেসিডেন্ট শির দারুণ ভক্ত! ২০১৫ সালে শির পাকিস্তান সফরের খবর পেয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় বিখ্যাত একটি পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় বিজ্ঞাপন আকারে তার সফরকে স্বাগত জানায়। নিজ হাতে আঁকা চীনা ভাষার ছবি ও অক্ষর দিয়ে শির সফরকে স্বাগত জানায় তারা। বাচ্চাদের কাছে এ পত্রিকাটি পাকিস্তানের জানালা। তারা ভাবে, প্রেসিডেন্ট শি অবশ্যই এ ছবি দেখতে পাবেন।

৯. বিজ্ঞানী হওয়া অনেক চীনা শিশুর স্বপ্ন!

প্রতিটি আন্তর্জাতিক শিশু দিবসে ‘শি-দাদা’ বা ‘বড় বন্ধু’ শি জিনপিং ব্যস্ততার মধ্যেও বাচ্চাদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন, তাদের শুভকামনা জানান এবং তাদের নিয়ে বিভিন্ন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কয়েক দিন আগে চীনের বিজ্ঞান একাডেমি ও প্রকৌশল একাডেমির সম্মেলনে শি চীনের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের বলেন, চীনের অনেক শিশু বিজ্ঞানী হতে চায়। বাচ্চাদের বিজ্ঞানী হওয়ার সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে, বিজ্ঞান প্রযুক্তির উন্নয়নের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে; যাতে ভবিষ্যতে দেশের বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে তারা অনেক অবদান রাখতে পারে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং দেশি-বিদেশি বাচ্চাদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটান। তিনি সবসময় বলেন, বাচ্চাদের সুন্দরভাবে বড় হওয়া তার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। বাচ্চাদের চোখে এই ‘বড় বন্ধু’ সবসময় তাদের বেড়ে ওঠা ও জীবনযাপনের ওপর মনোযোগ দেন। প্রকৃতপক্ষে শিশুরাই জাতির আশা ও দেশের ভবিষ্যত। সূত্র : চায়না রেডিও ইন্টারন্যাশনাল