cosmetics-ad

ডাস্টবিনের ময়লার টাকায় সেবার দৃষ্টান্ত

অনলাইন প্রতিবেদক, ২১ ডিসেম্বর ২০১৩, সিউল:

ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া বর্জ্য থেকে পুনঃব্যবহার উপযোগী পণ্যাদি (রিসাইক্লেবলস) আলাদা করে সেসবের বিক্রি বাবদ প্রাপ্ত অর্থ সেবামূলক কাজে দান করছেন সিউলের নয়জন পরিচ্ছন্নকর্মী। গত চার বছরে তারা ১ কোটি ৮০ লাখ উওন (১৭,১০০ ইউএস ডলার) সিউলের জুংগু জেলা প্রশাসনের দাতব্য তহবিলে জমা দিয়েছেন।

মাসিক ৮ লাখ উওন পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ১২০ ঘণ্টা কাজ করা এই মানুষগুলোর নিজেদের জীবনে অর্থের টানাপড়েন লেগেই থাকে। তা সত্ত্বেও এমন মহৎ একটি কাজে তাদের উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন যে ব্যক্তিটি তার নাম কিম ইয়ং হোয়া। ৪৪ বছর বয়সী কিম জেলা প্রশাসন দপ্তরের একটি পয়নিষ্কাশন দলের প্রধান। ১৯৯২ সালে একজন নিম্ন শ্রেনীর পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে জেলা অফিসে নিয়োগ পান।

°£½Äºñ ¾Æ²¸ 1õ800¸¸¿ø ±âºÎÇÑ ±¸Ã» À§»ý¿øµé

২০১০ সালের কোন এক সময় তার মাথায় এই অসাধারণ পরিকল্পনাটি আসে। সময় বাঁচাতে তিনি ভোর ছয়টায় কাজে চলতে আসতেন। বিশ্রামাগার, বারান্দা, সিঁড়ি, দেয়াল এসব ঝাড়মোছ শেষ করে সদলবলে লেগে পড়তেন ময়লার ব্যাগ থেকে পুনঃব্যবহার উপযোগী পণ্য আলাদা করার কাজে। প্রথম দিকে তার দলের অন্য সদস্যরা অতিরিক্ত কাজে অনাগ্রহ দেখালেও একটা সময় তারা এতে আনন্দ পেয়ে যায়। প্রথম মাসে এসবের বিক্রি থেকে আয় হয় প্রায় ১ লাখ উওন। এরপর প্রতি মাসে গড়ে ১ থেকে ২ টন রিসাইক্লেবলস বিক্রি করে তারা তিন লাখ উওন পর্যন্ত আয় করতে সক্ষম হয়।

২০১১ সালের ডিসেম্বরে কিম ও তার দল আশি লাখ উওন অফিসের দাতব্য তহবিলে জমা দেয়। ২০১২ সালের জমা করে ৫৮ লক্ষ ৫০ হাজার। এ বছর রিসাইক্লেবলসের দাম পড়ে যাওয়া সত্ত্বেও তারা ৫০ লাখ উওন জমা করতে পেরেছে।

দলের একজন সদস্য বলছিলেন, “ময়লার ব্যাগে খোঁজাখুঁজি করার সময় লোকজন প্রায়ই ঘৃণার চোখে তাকায়। তবে আমি এতে কিছুই মনে করি না। যখন ভাবি আমি এর মাধ্যমে আমার চেয়েও খারাপ জীবনযাপন করা কারও জন্য সামান্য হলেও কিছু করতে পারছি তখন আর কে কি ভাবল তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”