sentbe-top

মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সুইডেনের ছাত্রী এলিন

elineজোর করে সুইডেন থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছিল আফগানিস্তানের এক আশ্রয় প্রার্থীকে। তুমুল প্রতিবাদ করে একাই ওই শরণার্থীকে দেশে পাঠানো থেকে রক্ষা করেছেন এলিন এরসন (২১) নামে সুইডেনের এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী। খবর দ্যা গার্ডিয়ানের।

আফগান ওই নাগরিককে বিমানে করে দেশে পাঠানো হচ্ছিল কিন্তু এলিন এরসন নামের এ ছাত্রী তাতে বাধা দেন এবং একাই বিমানের ক্রু এবং অন্য যাত্রীদের সঙ্গে লড়াই করে শারণার্থী ব্যক্তিকে বিমান থেকে নামিয়ে দিতে সক্ষম হন। ফলে আপাতত আফগান শরণার্থীকে দেশে পাঠাতে পারেনি সুইডেনের নিরাপত্তা বাহিনী।

এলিন এরসন সুইডেনের গোথেনবার্গ থেকে স্থানীয় সময় গত সোমবার বিমানে করে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে যাচ্ছিলেন। বিমানে উঠে তিনি দেখতে পান আফগান ওই নাগরিককে বহিষ্কার করা হচ্ছে। তখন এলিন তার আসনে না বসে প্রতিবাদ শুরু করেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত আফগান নাগরিককে বিমান থেকে নামানো না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এলিন প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন। বিমানের নিয়ম অনুযায়ী যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো যাত্রী আসনে না বসবেন ততক্ষণ বিমান উড়তে পারবে না।

এলিন বলেন, আমি চাই না একজন মানুষের জীবন বিপন্ন হোক। এই লোকটিকে বিমান থেকে নামিয়ে না দেয়া পর্যন্ত আমি আসনে বসব না। এই ব্যক্তিকে বহিষ্কার করা ঠেকাতে আমি সবকিছু করব তারপর দেশের আইনকে সহযোগিতা করব।

এ সময় এক ব্রিটিশ যাত্রী এলিনের ওপর ক্ষিপ্ত হন। তখন এলিন তাকে বলেছেন, একজন মানুষের জীবন গুরুত্বপূর্ণ নাকি আপনার সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ? আমি চাই ওই ব্যক্তিকে বিমান থেকে নামিয়ে দেয়া হোক কারণ তিনি আফগানিস্তানে নিরাপদ নন, তাকে হত্যা করা হবে।

আমি আমার দেশের আইন পরিবর্তনের চেষ্টা করছি। আমি এসব আইন পছন্দ করি না। একজন মানুষকে জেনেবুঝে দোজখে পাঠানো ঠিক নয়। এরপর বিমান থেকে আফগান শরণার্থী ও তিন নিরাপত্তা কর্মী নেমে যান।

পড়াশুনার পশাপাশি এলিন সমাজসেবা এবং মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গেও সম্প্রিক্ত আছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুইডিস ওই ছাত্রীর ভিডিওটি রাতারাতি ভাইরাল হয়ে ৪০ লাখ বার দেখা হয়েছে।

সৌজন্যে- যুগান্তর

sentbe-top