মালয়েশিয়ায় আড়াই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা

malaysia-bangladeshiমালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা চলছে। দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সক্রিয় আইনি সহায়তায় চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ২ কোটি ৪১ লাখ ৭৬ হাজার ৮১৫ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে যেসব বাংলাদেশি কর্মীর ক্ষতিপূরণের চেক পাওয়া গেছে তারা হলেন- আব্দুল্লাহ (পাসপোর্ট নং- বিই ০২৮৩৬৪৭), আমির হোসেন (পাসপোর্ট নং-বিএল ০৩৭৮৮০৩), মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন (পাসপোর্ট নং এই ১৭৮০৯৭৬), আবুল কাসিম (পাসপোর্ট নং এফ০০৯১৬৮৬), মনিরুল ইসলাম (পাসপোর্ট নং এফ০৬৪৭২৩), সুরুজ শেখ (মৃত) (পাসপোর্ট নং এফ ০৩৩৭৭০৮), মো. তরিকুল ইসলাম (পাসপোর্ট নং এফ ০০৮০৬৫৮), মো. কাঞ্চন মিয়া (পাসপোর্ট নং বিবি০১৭২৬৯৩)।

এদিকে দেশটিতে কর্মরত অবস্থায় বাংলাদেশিদের দুর্ঘটনা, মৃত্যু ও ইন্স্যুরেন্সের ক্ষতিপূরণসহ বকেয়া পাওনা আদায়ে দূতাবাসের সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। তবে, বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রশাসনিক ধীরগতি ও হয়রানিসহ নানা কারণে বেশিরভাগ শ্রমিকের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে দুই বছরেও ক্ষতিপূরণ পায়নি বরিশালের মৃত ফজলু দফাদারের পরিবার। অভিযোগ উঠেছে দফায় দফায় প্রবাসী কল্যাণ অফিসে ধরণা দিয়েও তারা ক্ষতিপূরণের টাকা পাচ্ছেন না।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সদরের চরবুখাই নগর গ্রামের আছমত আলী দফাদারের ছেলে ফজলু দফাদার মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় মারা যান (পাসপোর্ট নং এফ-০৪৭৬৩৬৫) সিলনং-১২, ক্লেইমনং-৯৬/২০/৬,তারিখ : ০৭/১১/২০১৭। এরপর ক্ষতিপূরণ বাবদ হাইকমিশন থেকে মৃতের স্ত্রীও চার মেয়ের নামে ৫টি ডিইএমও ড্রাফট পাঠানো হয়। এরপর তারা বরিশাল হতে ওই ড্রাফট সংগ্রহ করে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যাংকে জমা দিতে যান। এ সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানান, সেগুলো ভাঙানো যাবে না।

পরবর্তীতে ফজলু দফাদারের পরিবার ঢাকায় ডাচ-বাংলা ব্যাংক, শান্তি নগর শাখায় জমা করতে গেলে ড্রাফটের মেয়াদ শেষ হয়েছে বলে জানান ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ফলে মৃতের স্ত্রী শাহানূরের নামে একক চেক পাওয়ার জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নিসহ মূল ৫টি ড্রাফট ডিইএমওর মাধ্যমে হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলরে ফেরত পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত দূতাবাস ক্ষতিপূরণের সূরাহা করতে পারেনি বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন শাহানূর।

এ বিষয়ে দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলে শ্রম শাখার কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিপূরণের চেক সময় মত তারা ব্যাংকে জমা না করায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সমাধানের।

দূতাবাস সূত্র জানায়, ক্ষতিপূরণ আদায় বাবদ নিয়মিত চেক দূতাবাস থেকে পাঠানো হলেও দেশে প্রত্যাশিত ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তরে দেরি হয়। ফলে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেই চেক নগদায়নে সমস্যা হয়। এরপর চেকটি পুনরায় মালয়েশিয়ায় ফেরত পাঠানো হলে নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রম অফিসের মাধ্যমে পেতে অনেক সময় লাগে।

এ বিষয়ে দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, আমরা দুর্ঘটনা, মৃত্যু বা বকেয়া বেতন ও শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইনি প্রক্রিয়ায় কাজ করে যাচ্ছি। যাদের বৈধতা এবং কাগজপত্র সঠিক আছে তারাই ক্ষতিপূরণ পাবেন। আর তা আদায়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়।

সৌজন্যে- জাগো নিউজ