পুরুষদের অভিবাসন ব্যয় কমেছে ১০ শতাংশ, নারীদের ৭ শতাংশ

bangladeshi-workerগত ৩ বছরে টাকার অংকে বাংলাদেশ থেকে পুরুষদের অভিবাসন ব্যয় (আন্তর্জাতিক) কমেছে ১০ শতাংশ ও নারীদের অভিবাসন ব্যয় কমেছে ৭ শতাংশ। সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশনের (এসডিসি) সহযোগিতায় রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) করা এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে জরিপের ফলাফল তুলে ধরে ‘ইমপ্যাক্ট অব মাইগ্রেশন অন ইনকাম, গ্রোথ অ্যান্ড পোভার্টি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি বই উন্মোচন করে রামরু।

জরিপের তথ্য তুলে ধরে রামরুর চেয়ারপারসন ড. তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, ‘গত তিন বছরে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে অভিবাসন ব্যয় কমেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী পুরুষদের ২০১৪ সালে অভিবাসন ব্যয় হয় ৩ লাখ ৮২ হাজার ৩১ টাকা। আর ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালে তাদের ব্যয় হয় ৩ লাখ ৪২ হাজার ২৫৪ টাকা। অর্থাৎ গত তিন বছরে টাকার অংকে পুরুষদের অভিবাসন ব্যয় কমেছে ১০ শতাংশ। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি হিসাবে আনলে প্রকৃত ব্যয় ২৫ শতাংশ কমেছে। নারীর অভিবাসন ব্যয় পুরুষের ব্যয়ের এক চতুর্থাংশ কমেছে। মুদ্রাস্ফীতি হিসাবে আনলে তাদের প্রকৃত অভিবাসন কমেছে ২১ শতাংশ।’

রেমিটেন্স প্রবাহের তথ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘২০১৪ সালের তুলনায় পুরুষ কর্মীদের রেমিটেন্সও কমেছে ব্যাপকভাবে। টাকার অংকে তাদের রেমিটেন্স কমেছে ১১ শতাংশ, কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি হিসাবে আনলে প্রকৃত রেমিটেন্স কমেছে ২৬ শতাংশ। নারী কর্মীর টাকার অংকে রেমিটেন্স বৃদ্ধি পেয়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি আমলে নিলে নারী কর্মীর প্রকৃত রেমিটেন্স ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ১৫ শতাংশ কমেছে।’

এ ছাড়া জরিপে আরও উল্লেখ, গত তিন বছরে আন্তর্জাতিক, অভ্যন্তরীণ এবং অন-অভিবাসী সব পরিবারেরই ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগ বৃদ্ধি পেয়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসী পরিবারে। আন্তর্জাতিক অভিবাসী পরিবারগুলোতে ভোগ বেড়েছে ৩০ শতাংশ, অভ্যন্তরীণ অভিবাসীর ক্ষেত্রে বেড়েছে ২১ শতাংশ এবং অন-অভিবাসীদের ক্ষেত্রে বেড়েছে ২৭ শতাংশ। খাতভেদে অভিবাসী এবং অন-অভিবাসী পরিবারগুলোর ভোগের প্রবৃদ্ধিতে ভিন্নতা রয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক অভিবাসী পরিবারগুলো অভ্যন্তরীণ ও অন-অভিবাসী পরিবারের তুলনায় দ্বিগুণ খরচ করে থাকে। তবে শিক্ষা খাতে খরচের হার বাকি দুই ধরনের পরিবার থেকে কম।

নারী অভিবাসনের অবস্থান তুলে ধরে জরিপে আরও বলা হয়, অভিবাসী নারীদের ক্ষেত্রে স্বামী পরিত্যক্তা বা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটা এবং বিধবা নারীর সংখ্যাই বেশি। অভিবাসনের ফলে এসব পরিবারের আয় এবং অবস্থান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। তবে সাধারণত পুরুষ কর্মীর তুলনায় নারী কর্মীর বাৎসরিক আয় বৃদ্ধির সুযোগ কম। নারী কর্মী পুরুষের তুলনায় কর্মক্ষেত্রও সীমিত। মাত্র তিনটি প্রধান পেশায় ৮০ শতাংশ নারী শ্রমিক কাজ করছেন। অথচ মাত্র ২৮ শতাংশ পুরুষ বিদেশে মাত্র তিনটি পেশায় কাজ করছেন। পুরুষদের তুলনায় নারী শ্রমিকের ভালো কাজ পাওয়ার সুযোগ কম। তবে নারী শ্রমিকরা বিদেশে যাওয়ার এক বছরের মাথায় তাদের অভিবাসন ব্যয় তুলে ফেলতে পারেন। এক্ষেত্রে পুরুষ শ্রমিকদের লাগে তিন বছর।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব ব্যাংকের লিড ইকোনোমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন এই গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘জাতীয়ভাবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের রেমিটেন্স কমে যাওয়ার কারণ অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় রেমিটেন্স প্রেরণের হার বৃদ্ধি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিফ ইকোনোমিস্ট ড. ফয়সাল আহমেদ মনে করেন, ‘ভোগ ও দারিদ্র্য সম্পর্কে রামরুর গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

সুইস অ্যাম্বাসির ডেপুটি হেড এলসেসর মনে করেন, ‘পুরুষের তুলনায় নারী শ্রমিকদের প্রাতিষ্ঠানিক অভিবাসন ঋণপ্রাপ্তির সুযোগে যে ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো যথাযথ নীতিমালার মাধ্যমে মোকাবেলা করা প্রয়োজন।’

বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুরশিদ অভিবাসনের সামাজিক মূল্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।