cosmetics-ad

দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণে এলএনজি ট্যাংকারের বাজার

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) জাহাজ বা এলএনজি ট্যাংকার সরবরাহের বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়া। আগামী তিন বছরে দেশটি ৯০০ কোটি ডলার মূল্যমানের এলএনজি ট্যাংকার সরবরাহের ক্রয়াদেশ পেয়েছে। বিশ্বের বেশকিছু বাজারে জ্বালানির উৎস হিসেবে এলএনজির চাহিদা বাড়ায় ট্যাংকারের ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে।

দাইয়ু শিপবিল্ডিং অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, হুন্দাই হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ ও স্যামসাং হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ বৃহৎ আকৃতির এলএনজি ট্যাংকার নির্মাণের ৫০টির বেশি ক্রয়াদেশ পেয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে তাদের এসব ট্যাংকার সরবরাহ করতে হবে। এ নতুন জাহাজগুলো যুক্ত হলে বিশ্বে এলএনজি জাহাজের সংখ্যা ১০ শতাংশ বেড়ে যাবে। তিনটি প্রতিষ্ঠানই শিপইয়ার্ড খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করছে। এদিকে জাপানের প্রধান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে জাহাজ নির্মাতাদের বিনিয়োগ আগের মতোই রয়ে গেছে অথবা কমছে।

দুই বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার শিপিং কোম্পানিগুলো মন্দার মুখোমুখি হয়েছিল। নতুন ক্রয়াদেশের ফলে তারা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছে।

শিপিং ব্রোকারেজ ব্রেমারের মতে, চলতি বছর বিশ্বের ৭৮ শতাংশ এলএনজি-টাংকার সরবরাহের ক্রয়াদেশ এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়, ১৪ শতাংশ জাপানে ও ৮ শতাংশ চীনে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক এ তিন দেশ। গত কয়েক সপ্তাহে এ দেশগুলোর বাজার সর্বোচ্চ সংরক্ষণ সক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসায় এলএনজির দাম পড়ে গেছে। দাম ওঠানামা করলেও বিশ্বে এলএনজির চাহিদা কমেনি।

দাইয়ু শিপবিল্ডিং অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ডিএসএমই) ভাইস প্রেসিডেন্ট পাক হুং-গুন বলেন, ‘এলএনজির বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ার ফলে এলএনজি ক্যারিয়ারের চাহিদাও বেড়ে গেছে। বিশ্বে এলএনজির চাহিদা আরো বাড়বে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নির্মাতারা এলএনজির বাজারে নিজেদের সম্প্রসারিত করবে।’

বৈশ্বিক এলএনজি চাহিদার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠছে এশিয়া। এশিয়ার মাসিক এলএনজি সরবরাহ ২০১৫ সালের তুলনায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন বৃদ্ধি পেয়েছে। রিফাইনিটিভ এইকনের এক গবেষণায় দেখা যায়, চলতি বছর বৈশ্বিক এলএনজি চাহিদার সিংহভাগ গেছে উত্তর-পূর্ব এশিয়া ও এশিয়ার অবশিষ্ট অংশ এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোয়। গবেষণায় বলা হয়, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ দুই অঞ্চলে মাসে ২ কোটি ৩৭ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহ প্রয়োজন হবে। একই সময় ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে মাসে চাহিদা থাকবে মাত্র ৭৯ লাখ মেট্রিক টন।

চীনও এলএনজির পরিপক্ব বাজারে পরিণত হয়েছে। দেশটির সরকার দূষণ কমানোর তাগিদে কয়লার ব্যবহার কমিয়ে শিল্প-কারখানা ও গৃহস্থালি কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে দেশটির অন্তত ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এলএনজির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার এলএনজি ক্যারিয়ার নির্মাতারা সারা বিশ্বে তাদের ব্যবসা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। রাশিয়ান আর্কটিক, পাপুয়া নিউ গিনি, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, পূর্ব আফ্রিকা এবং কাতারের বেশির ভাগ নতুন এলএনজি প্রকল্পেই দক্ষিণ কোরিয়া জাহাজ সরবরাহ করবে।

সূত্র: অয়েলপ্রাইস ডটকম