cosmetics-ad

কিমের হুঁশিয়ারি

trump-kim

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আরোপ করা অবরোধ বলবৎ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ অব্যাহত রাখলে পিয়ংইয়ং তার কর্মপন্থা পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করতে পারে। কূটনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতির ১২ মাস পর মঙ্গলবার নতুন বছর উপলক্ষে দেয়া ভাষণে দেশটির নেতা কিম জং উন এ হুঁশিয়ারি জানান। কিম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সমগ্র বিশ্বের সামনে করা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে অবরোধের বিষয়ে জোর করলে এবং আমাদের ওপর চাপ বজায় রাখলে আমরা আগের অবস্থান থেকে সরে এসে আমাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে নতুন পন্থার কথা বিবেচনা করতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘সমগ্র বিশ্বের সামনে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা যদি তারা রক্ষা না করে, আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও চাপ অব্যাহত রাখে, তাহলে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষায় নতুন পথের কথা বিবেচনা করে সেখান (চুক্তি) থেকে সরে আসা ছাড়া আমাদের হাতে আর কোনো বিকল্প থাকবে না।’ কিম গত জুনে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে তার সম্মেলনের কথা উলে¬খ করে বলেন, ওই সময় তিনি ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা এবং ‘গঠনমূলক মতবিনিময়’ করেন। সিঙ্গাপুরের ওই সম্মেলনে এ দুই নেতা কোরীয় উপদ্বীপের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি অস্পষ্ট চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তবে এটা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বিতর্ক থাকায় এ ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, ব্যবহার ও এর বিস্তৃতি বন্ধে পিয়ংইয়ং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে বলে ভাষণে উল্লেখ করেন কিম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ফের যেকোনো সময়ে বসতে প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেছেন। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে উত্তরের শীর্ষ নেতা ২০১৯-এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষার ইঙ্গিত দিলেন। যুক্তরাষ্ট্রনীতি না বদলালে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা বন্ধে উত্তর কোরিয়ার সাময়িক বিরতি শেষ হয়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কা তাদের।

২০১৭ সালে একের পর এক ব্যালিস্টিক ও যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম এমন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার করে উত্তর কোরিয়া। পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্য কথার লড়াইও চলে। পরে গত বছর খ্রিষ্টীয় নতুন বছর উপলক্ষে দেয়া ভাষণে কিম শীতকালীন অলিম্পিকে তার দেশের অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের বরফ গলানোর ইঙ্গিত দেন। ওই ধারাবাহিকতাতেই জুনে সিঙ্গাপুরের সানতোসা দ্বীপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে এক ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকে বসেন কিম। দায়িত্বে থাকা কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে উত্তর কোরিয়ার কোনো শীর্ষ নেতার মধ্যে এটিই ছিল প্রথম বৈঠক।

ওই বৈঠক থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে একসাথে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছিল। ওই প্রতিশ্রুতির পর পিয়ংইয়ং নতুন করে ব্যালিস্টিক ও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা ও উৎক্ষেপণ না চালালেও দেশটির ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ বহাল থাকে। নতুন বছরের প্রথম ভাষণে সে প্রসঙ্গটিই সামনে আনলেন কিম।

সৌজন্যে- নয়া দিগন্ত