sentbe-top

পাঁচতলা থেকে পড়েও বেঁচে গেল শিশুটি

india-newsনিজেদের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ভারতের মুম্বাইয়ের বাসিন্দা অজিত এবং জ্যোতি বারকাডে। পাঁচতলা থেকে বারান্দার জানালা খুলে নিচে পড়ে গিয়েছিল তাদের এক বছরের শিশুপুত্র। সব শেষ ভেবে নিচে দৌড়ে এসেছিলেন তারা। কিন্তু এসে দেখেন, চোট পেলেও দিব্যি জ্ঞান রয়েছে তাদের ছেলের। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। আপাতত চিকিৎসাধীন শিশুটি।

আনন্দবাজার জানায়, মুম্বাইয়ের বিএস দেবাশি রোডের গোপী কৃষ্ণ আবাসনের বাসিন্দা অজিত এবং জ্যোতি। গোটা পরিবার নিয়ে সেখানে বাস তাদের। বৃহস্পতিবার সকালে ফ্ল্যাটের ড্রয়িং রুমে আপন মনে খেলছিল তাদের চোদ্দ মাসের ছেলে অথর্ভা বারকাডে। পৌনে ৯টা নাগাদ ড্রয়িং রুমের দেয়ালে বসানো ফরাসি ধাঁচের কাচের জানালা খুলে জামা-কাপড় মেলতে যান অজিতের মা। কিন্তু জানলা ঠিক করে বন্ধ করতে ভুলে যান তিনি।

তাতেই বিপত্তি বাধে। বাইরের দিকে লোহার গ্রিল বসানো না থাকায়, খেলতে খেলতে খোলা কাচের জানলা দিয়ে নিচে পড়ে যায় অথর্ভা। বিষয়টি বুঝতে দেরি হয়নি তাদের। আতঙ্কে নিচে ছুটে আসেন সকলে। কিন্তু এসে দেখেন, মাটিতে শুয়ে কাঁদছে ছোট্ট শিশুটি। ঠোট ফেটে রক্ত পড়ছে তার। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ধাতস্থ হন তারা। তারপর নজর যায় অথর্বের পাশে নুয়ে পড়া একটি গাছের ডালের দিকে। বাকিটা বুঝতে আর অসুবিধা হয়নি।

আবাসন চত্বরেই দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে উঠেছে গাছটি। তার উচ্চতা পাঁচতলা ছাড়িয়ে গিয়েছে। একটি ডাল আবার পাঁচতলায় অজিতদের ফ্ল্যাটের জানলার নিচে পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। তাই খোলা জানালা দিয়ে সোজা ওই গাছের ডালের ওপর এসে পড়ে অথর্ব। তার ভারে ডালটি নুয়ে পড়ে। সেখান থেকে মাটিতে পড়ে যায় অথর্ভা। তাই গুরুতর চোট পায়নি সে। বরং ভয়ে কেঁদে ফেলে।

তড়িঘড়ি মুলুন্ডের বেসরকারি একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় অথর্ভাকে। এই মুহূর্তে সেখানে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে সে। তার ঠোঁট ফেটে গেছে। চোট লেগেছে পায়ে। তবে লিভারে আঘাত লাগাতেই চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন তাকে। তবে আঘাত তেমন গুরুতর নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

sentbe-top