cosmetics-ad

নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

usa-al-clash

২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা মঞ্চের আসন ভাগাভাগি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর হামলাকারী পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। স্থানীয় সময় গত রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে।

জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা মঞ্চের আসন বেচাকেনা শুরু হয়েছে গত দুই মাস আগে থেকেই। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদককে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা মঞ্চে বসার সুযোগ করে দেন বর্তমান সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রে আগমনে উপলক্ষে গত রোববার রাতে জ্যাকসন হাইটসের তিতাস রেস্টুরেন্টে প্রস্তুতি সভায় আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী হোসাইনসহ কয়েকজন নেতা প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলছিলেন। এমন সময় নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেনের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল ওই সভায় উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন দাবি দাওয়ার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলের কর্মীরা জানান, গণসংবর্ধনায় চেয়ার বরাদ্দ নিয়ে দু’দিন আগে থেকেই ওয়ালী হোসাইনের সঙ্গে এমদাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এমদাদের দাবি, নিউইয়র্ক আওয়ামী লীগকে সামনের সারি ও মোট চেয়ারের অর্ধেকের বেশি বরাদ্দ দিতে হবে। সিদ্দিকুর রহমান উপস্থিত থাকলেও বরাবরের মত কোন ভূমিকা নেননি। ওয়ালী হোসাইন তাকে জানান, প্রতিটি স্টেট আওয়ামী লীগের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন বরাদ্দ রেখে প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। এতেই ক্ষেপে যান নিউইয়র্ক মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন।

এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। এতে ওয়ালী হোসাইন আহত হন। তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এমদাদ চৌধুরী ও তার ভাইসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দাবিতে বেশ কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছেন দলের নেতাকর্মীরা। সম্মেলন সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে মনগড়া ও একক সিদ্ধান্তে দল পরিচালনা করছেন সিদ্দিক। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন নেতাকর্মীরা। দু’গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে দল। ফলে দিন দিন আরও ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। অধিকাংশ নেতাকর্মীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগেই মেয়াদ শেষ হওয়া কমিটি বাতিল করে সম্মেলনের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু কমিটি গঠন হোক। গত বছর গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সামনেই ‘নো মোর সিদ্দিক’ বলে স্লোগান তুলে যে অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছিল এবার যেন সে ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এটাই নেতাকর্মীদের দাবি। প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা সফল করতে দু’গ্রুপই প্রস্তুতি নিচ্ছে।