
গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলসহ পুরো গাজাজুড়ে অন্তত ৫০টি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর আগে তারা ওই এলাকার বাসিন্দাদের স্থান ত্যাগ করার হুমকি দিয়েছিল, যার ফলে বড় পরিসরে হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রবিবার (২৯ জুন) ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৬৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গাজার চিকিৎসা কর্মকর্তারা। এর মধ্যে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন গাজা সিটি ও উত্তর গাজা অঞ্চলে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, গাজা সিটির একটি হাসপাতাল বর্তমানে আহতদের চাপে হিমশিম খাচ্ছে। আহতদের অনেকেই বাঁচার আকুতি নিয়ে হাসপাতালে আসলেও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেকে মারা যাচ্ছেন।
সবশেষ গত এক ঘণ্টা আগে উত্তর গাজার জাবালিয়া আল-বালাদ এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় কমপক্ষে চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের একটি সূত্র।
এই হামলায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন, তবে আহতদের সংখ্যা এখনো নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।
এদিকে, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস জানিয়েছে, তারা গাজায় যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ এবং ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের বিনিময়ে বাকি ৫০ জন ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিতে প্রস্তুত। তবে ইসরায়েল এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধ থামানোর একমাত্র শর্ত হলো হামাসের আত্মসমর্পণ, অস্ত্র পরিত্যাগ এবং নির্বাসনে চলে যাওয়া। তবে হামাস এই শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান উপদেষ্টা রন ডারমার চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে যাবেন যুদ্ধবিরতি বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিতে। এছাড়া নেতানিয়াহুর নিজে যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনাও চলছে, যা সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দিতে পারে।
তবে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার আলোচনা বারবার অচলাবস্থার মুখে পড়ছে একটি বড় ইস্যুতে—এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে কিনা।
অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, নেতানিয়াহু এখন হামাসের সঙ্গে একটি চুক্তির পথে এগোচ্ছে, যার আওতায় বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে।
নেতানিয়াহু বলেছেন, সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে তাদের “জয়” বহু নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, যার মধ্যে গাজায় আটক বন্দিদের মুক্তিও রয়েছে।
দুই পক্ষের অবস্থান এখনো কঠোর। একদিকে হামাস যুদ্ধ থামানোর শর্তে বন্দি মুক্তি দিতে রাজি, অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, হামাসকে অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণ করতে হবে—যা রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে হামাসের জন্য অনতিক্রম্য বাধা।
এ অবস্থায় গাজা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।
এদিকে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলি কিছু বন্দিমুক্তির বিনিময়ে একটি নতুন সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৬ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪১৯ জন। অন্যদিকে, ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হন ১ হাজার ১৩৯ জন এবং দুই শতাধিক মানুষ বন্দি হন।
এই যুদ্ধের ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলেছে, আর এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।



































