বুধবার । মার্চ ২৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১৭ আগস্ট ২০২৫, ৪:০৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

কক্সবাজার সম্মেলন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বড় সুযোগ: ড. খলিলুর রহমান


কক্সবাজার সম্মেলন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বড় সুযোগ: ড. খলিলুর রহমান

ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের উদ্যোগে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর একটি বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) এবং প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান।

রবিবার (১৭ আগস্ট) সকালে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের ব্রিফ করেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি রোহিঙ্গা পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরে আসন্ন কক্সবাজার সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

এতে উপস্থিত এক রাষ্ট্রদূত জানান, কক্সবাজার সম্মেলনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, এবং এতে যোগ দিতে আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানো হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, একসময় রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক আলোচনার তালিকা থেকে প্রায় হারিয়ে যাচ্ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে গত বছর প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গিয়ে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের আহ্বান জানান। সেই উদ্যোগের পর ১০৬টি দেশ এই সম্মেলনকে স্পন্সর করে এবং সর্বসম্মতিক্রমে জাতিসংঘ তা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। এখন এই বিষয়ে যথেষ্ট আন্তর্জাতিক সমর্থন রয়েছে।

রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ উল্লেখ করেন, কক্সবাজার সম্মেলন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ। রোহিঙ্গারা জাতিসংঘের সদস্য না হলেও, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্নকে সামনে আনা জরুরি। বাংলাদেশ সেই দায়িত্বই পালন করছে।

ড. খলিলুর রহমানের মতে, এই সম্মেলন রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি গোটা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য একটি স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান বের করার পথ নির্দেশ করতে সক্ষম হবে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন জাতিসংঘের উদ্যোগে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কক্সবাজারের সম্মেলনটি জাতিসংঘের একটি বৃহত্তর সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশবিশেষ। এই সম্মেলনটি রোহিঙ্গাদের জন্য এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য এই সমস্যার একটি স্থায়ী ও প্রকৃত সমাধান খুঁজে বের করার পথনির্দেশিকা দেওয়ার একটি বড় সুযোগ।

তিনি বলেন, এক সময় রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক আলোচনার এজেন্ডা থেকে প্রায় বাদ পড়ে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের জন্য সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই আহ্বানে তাৎক্ষণিকভাবে এবং সর্বসম্মতিক্রমে সাড়া পাওয়া যায় এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এই সম্মেলন আহ্বানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিশ্বের ১০৬টি দেশ এই সম্মেলনকে স্পন্সর করেছে। এখন যথেষ্ট পরিমাণ আন্তর্জাতিক সমর্থন রয়েছে।

নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, এই সম্মেলনটি রোহিঙ্গাদের জন্য এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য এই সমস্যার একটি স্থায়ী ও প্রকৃত সমাধান খুঁজে বের করার পথনির্দেশিকা দেওয়ার একটি বড় সুযোগ। এই কারণে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর, তাদের কথা, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের স্বপ্নগুলোকে সে সম্মেলনে তুলে ধরার প্রচেষ্টা চলছে। যেহেতু রোহিঙ্গারা জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র নয় কিন্তু তাদের পক্ষে কাউকে তাদের কথা তুলে ধরতে হবে। বাংলাদেশ এ ধরনের প্রক্রিয়াতে সে কাজটি করছে।

উল্লখ্যে, আগামী ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে ‘অংশীজন সংলাপ: রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে আলোচনার জন্য প্রাপ্ত বার্তা’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঢাকায় থাকা কূটনীতিকদের এ বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আজ সকালে ব্রিফ করেন। ব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি তুলে ধরে এ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ সময় ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে থাকা বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এদিকে ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া এক রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘কক্সবাজার সম্মেলনের শিডিউল দেওয়া হয়েছে। এতে যোগ দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।’