
অবশেষে আন্দোলনরত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে আলোচনায় বসেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা। বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার পর রাজধানীর রেলভবনে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১১ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
এদিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ কোনো সভ্য সমাজে কাম্য নয়। অথচ আজ প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা যমুনার দিকে যাত্রা করার সময় পুলিশ নির্মমভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”
দুপুরে প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারীদের দাবির যৌক্তিকতা যাচাই ও সুপারিশ প্রণয়নের জন্য আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সরকার। তবে সেই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা। পরিবর্তে তারা ৫ দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো-
১. আজকের হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমকে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ ও জবাবদিহি করতে হবে।
২. আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রোকনের ওপর হামলাকারী ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান কমিটি বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।
৪. পূর্বে ঘোষিত ৩ দফা দাবি নির্বাহী আদেশে দ্রুত প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে হবে এবং তিন উপদেষ্টা—ফওজুল করিম, আদিলুর রহমান ও সৈয়দা রেজওয়ান হাসানকে শিক্ষার্থীদের সামনে এসে নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৫. হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খরচ সরকারকে বহন করতে হবে এবং ভবিষ্যতে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
































