
শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। দুই দেশ এখন বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদার করছে, আর সেই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-ইসলামাবাদের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতিও চলছে। তবে এ সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।
বুধবার প্রকাশিত ‘ওয়াচ ক্লোজলি: এডিটোরিয়াল অন দ্য শিফট ইন বাইল্যাটারেল রিলেশন্স বিটুইন পাকিস্তান অ্যান্ড বাংলাদেশ’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে নয়াদিল্লিকে স্পষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, ঢাকার সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারান এবং ভারতে আশ্রয় নেন। তাঁর দলের বহু নেতা-কর্মীও সে সময় ভারতে চলে যান। বর্তমানে তাদের অনেকে সেখানেই অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হয়।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়, শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সম্প্রতি ঢাকায় এসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই পক্ষ বাণিজ্য, কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আলোচনা করেছে।
টেলিগ্রাফ লিখেছে, ভারতের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো ইসহাক দারের বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ। তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং সেই ছাত্রনেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন, যারা শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন। এ পরিস্থিতি ভারতের কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে স্পষ্টতই অস্বস্তিকর।
আগামী ২০২৬ সালের শুরুতেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তার আগে পাকিস্তান প্রকাশ্যেই বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, যা নয়াদিল্লির জন্য ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সমালোচকদের অন্যতম অভিযোগ ছিল তাঁর অতিরিক্ত ভারত ঘনিষ্ঠ নীতি। ক্ষমতায় টানা ১৫ বছর সেই অভিযোগ ক্রমে সাধারণ জনরোষে রূপ নেয়, যা শেষ পর্যন্ত ভারতবিরোধী মনোভাবকে উসকে দেয়। ফলে ভারতের জন্য পরিস্থিতি এখন আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টেলিগ্রাফ প্রশ্ন তুলেছে, নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সক্রিয় উপস্থিতি কী প্রভাব ফেলবে? বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এখনও ১৯৭১ সালের গণহত্যা ও নারকীয় অপরাধ থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখতে পারেনি। তবু তাদের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক যোগাযোগ ভারতের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা।
সম্পাদকীয় শেষ দেয়া হয়েছে একটি স্পষ্ট বার্তা। বলা হয়, বাংলাদেশের উদীয়মান শক্তিগুলোর সঙ্গে দিল্লিকেও দ্রুত সেতুবন্ধন তৈরি করতে হবে। কিছু রাজনৈতিক দলের প্রতি অবিশ্বাস থাকলেও বাস্তববাদী রাজনীতি এবং ভূরাজনীতির স্বার্থে ভারতকে ঢাকার সঙ্গে সমঝোতার পথ বের করতেই হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করও এ বাস্তবতার পক্ষে বলেই টেলিগ্রাফ উল্লেখ করেছে।
































